বুদ্ধদেব
বসুর কবিতার পাঠোদ্ধার
আর্যনীল
মুখোপাধ্যায়
বাংলা
কাব্যসাহিত্যে
বুদ্ধদেব বসুর
অবদান সম্বন্ধে
এখনো উদাসীন ১৯৫০
পরবর্তী বাংলা
কবিতার প্রায় গোটা
রাজ্যই। রবীন্দ্র-পরবর্তী বাংলা কবিতার প্রধান কাণ্ডারী হিসেবে যে জীবনানন্দ দাশের কাছে বাংলা কবিতা প্রণত, সেই জীবনানন্দের প্রতিভার শনাক্তিকরণ ও তাঁর কাব্য অবদানের ওপর প্রয়োজনীয় আলোকপাত তাঁরই সমসাময়িক বুদ্ধদেব যেভাবে করেছেন, সে কথা ভুলে যাওয়া মূর্খামি অথবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দ্রোহিতা
বা ভণ্ডামি। একথাও বহুচর্চিত কীভাবে সেই জীবনানন্দ দাশও তাঁর স্বভাবের
জটিল জড়তার কারণে বুদ্ধদেবকে এড়িয়ে গিয়েছেন বারবার। আমরা ফিরে পড়ছি ইতিহাস। কিন্তু নিরপেক্ষ পাঠে নিয়োজিত হতে পারছি কি?
২০০৮ সালে বুদ্ধদেব বসুর জন্মশতবর্ষে তরুণ মার্কিন কবি ও প্রাবন্ধিক প্যাট ক্লিফোর্ড বুদ্ধদেব ও জর্জ ওপেনকে নিয়ে একটি মহামূল্যবান গবেষণাভিত্তিক প্রবন্ধ প্রকাশ করেন অস্ট্রেলিয়ার জ্যাকেট ম্যাগাজিনে। একথা মনে থাকা উচিত, বুদ্ধদেব বসু বহু বিদেশী কবি-লেখকের সাথে সাহিত্যিক সম্পর্ক তৈরি করতে পেরেছিলেন যার সমান্তরাল বাংলা সাহিত্যে নেই। এ কথা রবীন্দ্রনাথকে মনে রেখেই লিখতে হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ যে তাঁর সমসাময়িক আন্তর্জাতিক সাহিত্যিকদের সাথে পরিচিত হননি তা নয়,
তবে তিনি অধিকাংশ সময়েই অনুচর, অনুগামী
ও পক্ষাবলম্বীদের মধ্যে থেকেছেন। সমসাময়িক ও
সমবয়সী সাহিত্যিকদের সাথে খুব একটা সাহিত্যিক আদান-প্রদান তাঁর
ঘটেনি। প্যাট ক্লিফোর্ডের গবেষণা বুদ্ধদেব বসুর বিদেশী কবি ও কবিতার সাথে যৌথ সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি সম্পূর্ণ অজানা অধ্যায় আমাদের কাছে উন্মুক্ত করেছিলো। এই গবেষণায় প্যাটকে আমি যে কিছু সাহায্য করতে পেরেছিলাম এতে নিজেকে গৌরবান্বিত মনে করেছি। প্যাটের সেই লেখা, যা বাংলায় আমি অনুবাদ করি,
ঋষি ভট্টাচার্য সম্পাদিত একটি
বুদ্ধদেব
বসু শতবর্ষ সংকলনে
সংগৃহীত হয়।
সম্প্রতি
প্যাট ক্লিফোর্ড
এক সাংখ্যিক সংগ্রহশালা
থেকে একটি অডিও
রেকর্ডিং উদ্ধার
ক’রে আমায় পাঠায়। সেখানে
বুদ্ধদেব বসু নিউ
ইয়র্কের কোথাও
এক কবিতাপাঠের
আসরে নিজের কবিতার
স্বকৃত ইংরেজী
অনুবাদ পড়ছেন। ১৯৬৫ সালের
বসন্তে এই পাঠানুষ্ঠান
আয়োজিত হয়। বুদ্ধদেবের
স্বকৃত ইংরেজি
অনুবাদের ভাস্বরতার
প্রসঙ্গে যাবার
অনেক আগেই যেটা
উল্লেখ্য সেটা
ওঁর গোটা তদানীন্তন
বাংলা কাব্যসাহিত্যকে
বহন করার ক্ষমতা
ও মহানুভবতা। সুনীল
গঙ্গোপাধ্যায়
থেকে শুরু করে
অনেক বাঙালী কবি, দুই
বাংলারই, পরবর্তীকালে
আমেরিকায় গিয়েছেন,
নানা কবিতা আলোচনা
বা পাঠের আসরে
যোগদান করেছেন। এঁদের
মধ্যে এমন ক’জন কবি
আছেন যাঁরা নিজের
কবিতার পূর্বে
সতীর্থদের কবিতা
পড়েছেন? সমসময়ের
বলিরেখা টেনে তার
পরে নিজের কবিতাকে
রেখেছেন? বুদ্ধদেব
বসুর কবিসত্তার
বিরাটত্ব এখানে। আর এখানেই
পরবর্তী বাংলা
কবিতার উচিত তাঁর
পায়ে আগে লজ্জা
ডাঁই করা। তারপর
আগ্রহ।
এবারের
কৌরব অনলাইন ৬৪তে
বু ব-র সেই পাঠোদ্ধার
রাখা হলো। সঙ্গে
ন’জন পশ্চিমবঙ্গের
কবির সাম্প্রতিক
লেখালিখির কিয়দাংশ। এ সংখ্যায় ২১:১০
ও তার পরবর্তী
কবিতা নির্বাচনের
দায়িত্ব বহন করেছেন
এসময়ের অতিতরুণ
কবি অরিত্র চট্টোপাধ্যায়।
আর্যনীল
শীত, ২০২৪
![]()
||
|| || ||