ইন্দ্রনীল চক্রবর্তী

 

দর্শক কবিতা

 

(১)

তোমার সভ্যতা, আমার সভ্যতা,

শহর দিয়ে চলে যায় যে সকাল সভ্যতা,

শত শত শ্বেত কণিকার সভ্যতা,

দেয়ালের ধার দিয়ে পিঁপড়েদের নেমে আসার সভ্যতা।

নলের ডগায় থাকা সভ্যতা -সব সভ্যতা দিয়ে

বিশুদ্ধ রক্তের মত বয়ে যাচ্ছে যে জল-

জমা হতে হতে

গাড়ির কাঁচে ধারা হয়ে নেমে আসছে সুখ।

                                  

                                               প্রতিফলিত হয় হা -মুখ,

                                                এক বিম্বিসার ইতিহাস খনন কালে

                                               অজস্র নালার মধ্যে দিয়ে ঝরে পড়ে ।

                                                দেখতে থাকে -এক দর্শক কবিতা,

দাঁড়িয়ে থাকে এক বিস্ময় বিহ্বল, আপেক্ষিক চোখের তারায় শতাব্দী শতাব্দী প্রাচীন  কবিতা।

 

(“শতরঞ্জ কি খিলাড়ি” ছবি তে একটি ছেলেকে দেখা যায় এগিয়ে আসতে থাকা সৈন্যদের দিকে তাকিয়ে থাকতে। সেই চোখের দৃষ্টি এই কবিতার ভাবনার উপাদান।  তার দৃষ্টি আর কবিতায় হা-মুখ দৃষ্টি কখন যে এক হয়ে যায়, তা এই এক  জীবনে জানা হয় না )

 

 

(২)

রেলগাড়ি,

এক অসাড় পথ,

ধুলো জাগা আকাশ হতে এক মিথ্যে স্বপ্নের দল।

চুরি হয় গড়িয়ে যাওয়া উলের বিকেলগুলি,

এক বুক মিথ্যে আর দেয়ালঘড়ি।

এক রাজত্ব স্বপ্নে

ছুটতে ছুটতে ফিরে আসি-

 

                                                  তবু দেখি বুদ্ধ এক

                                                  বিশুদ্ধ, স্থিতধী । জেগে থাকে অনন্ত কল্পে

                                                  এক বিরাট করুণা যানে। সহস্র বছরের

                                                  অশ্রুত কবিতা তাকিয়ে থাকে মিথকল্পে -

                                                  ছুটে চলা দ্রুতগামী  জীবনের দিকে।

 

(ট্রেন যায় ও আসে সর্পিল পথে। “৩৫ শটস অফ রাম” ছবিটির ট্রেন আসা যাওয়ার দৃশ্য এ কবিতার  ভাবনার সহায়ক। সেই ভাবনার হাত ধরেই এক জীবনে কবিতা দর্শক হয়ে যায় আরেক জীবনের কাছে। )

 

 

ইন্দ্রনীল চক্রবর্তীর লেখালিখির শুরু একুশ দশকের গোড়ায়। সাহিত্যজগতে কবিতা, অনুগল্প, অনুবাদের মাধ্যমে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখালিখির শুরু। এর মধ্যে – কৌরব, অপরজন, সুখপাঠ, ক্ষেপচুরিয়ান্স, আবহমান, কালিমাটি, আদরের নৌকো, বুকপকেট, অন্যনিষাদ, প্রভৃতি। প্রথম বই – মন খারাপের পরে। দ্বিতীয় বই – গেট নাম্বার ২২-এর কবিতা। কবিতা লেখার পাশাপাশি চলচ্চিত্রে অনুরক্ত। নিজের কবিতা নিয়ে ইন্দ্রনীল বলেছেন – যেটুকু বলা হলো কবিতায় তার বাইরে আসল কবিতাটুকু রয়ে গেল। পেশা – IIIT হায়দ্রাবাদে কর্মরত বিজ্ঞানী ও সহযোগী অধ্যাপক। বিষয় – quantum information।