ইন্দ্রনীল
চক্রবর্তীর কবিতা
ইন্দ্রনীল
চক্রবর্তীর জন্ম
১৯৭৮। লেখালেখির
শুরু একুশ-দশের
গোড়ায়। পেশায় গবেষক
ও সহযোগী অধ্যাপক।
প্রথম বই মন খারাপের পর
। দুটি কবিতার
বই। কবিতা, অনুগল্প,
অনুবাদের মাধ্যমে
বিভিন্ন পত্র পত্রিকায়।
কবিতার লেখার পাশাপাশি
চলচ্চিত্রের অনুরাগ।
নিজের কবিতা প্রসঙ্গে
ইন্দ্রনীল উবাচ
- যেটুকু বলা হল
কবিতায় তার বাইরে
আসল কবিতাটুকু
রয়ে গেল। পূর্বে
কৌরব অনলাইন পত্রিকায়
প্রকাশিত, ‘আয়নার
সাথে কথোপকথন'
কবিতাগুচ্ছের
ভাবধারায় সৃষ্টি
পরবর্তী পর্যায়ের
কবিতা ।
![]()
আয়নার সাথে
কথোপকথন
(১)
আয়নার সাথে
এ ভাবে দাঁড়িয়ে
থাকা
বিন্দু শুদ্ধু
এ ভাবে তির্যক
না, না
- হল স্মৃতি
মাদুর, প্রতিফলিত
হলও না ।
যে ভাবে খুশি
বিছিয়ে দিলে,
আর সমস্ত কিছুকে
চাদর ভেবে
এক পাক দিয়ে
দাঁড়ালাম উঠে।
তুমিও কোনও ভাবে
'হাতি' ছুঁলে
আর আমিও
ছুঁলাম কোনভাবে
।
চীনদেশীয় কানাকানির
সত্য,
এখন সত্য।
লগ্নি শব্দ
ক্রমশ চাদর হয়ে
দাঁড়াচ্ছে
ঢেকে দিচ্ছে
বারবার
প্রতিবারের
সত্য, আর
বাতাসের কানাকানিতে
সাপটে নিচ্ছে।
অথ বিস্তৃত
হল--- আদি, অকৃত্রিম
লগ্নি ঐতিহ্য।
(২)
‘এ সমুদ্রটা
আমি ধরে রাখতে
পারব'
এ ভাবনায়- হটাৎ
পাশে এসে বসেছিল
এক টুকরো রোদ।
আমি তাকে সাজিয়ে
নিতে পারতাম
সান্ধ্য ভাষায়।
বৌদ্ধ মতে।
এই চেতনার
নতোদর প্রতিবিম্বে।
কিন্তু রোদ
আমায় ছোঁয় নি,
অথচ তাকে উজ্জ্বল
করেছিলাম।
তার শূন্য
রঙে ছড়িয়ে দিয়েছিলাম
কাঁচ, কাঁচ
রোজ, রোজ।
অপার্থিব কাঁচ-
একটু একটু করে
বেড়ে ওঠার
জীবন আসবাবে,
আবার
এসে বসি শূন্য
রঙে
সমুদ্রটা ধরে
রাখব, ঠিক এবারে।
(৩)
সচেতন ভাবে
হেঁটে যেতে দেখেছি
একটি কুর্দিশ
কিশোরী “আগ্রিন”।
সদ্যজাত ভ্রূণ
বিষয়ক।
আমার ঘরের
কাঁচের পাশে
প্রকাণ্ড গাছ
ছায়া দিচ্ছে;
উল্লিখিত ছায়ায়
বাড়ছিল মেয়ে
নারী আহ্বায়ক।
হারসির ' হিরোশিমা'
পড়েও এমনটি
বুঝেছিলাম। কিন্তু
ওই-
ঘরের মধ্যেও
ক্যাকটাস সামগ্রী
বিনিদ্র রাত
জেগে।
জানলা যা খোলা
রয়ে গেল
ঘুমেরও পর-
সেখানে অজস্র
কুর্দিশ রমণীরা
পরাঙ্মুখ ভাষায়
ধিক্কার দেয়
তোমাকে জড়।
আর অতল প্রতিবিম্ব
হয়ে ওঠে একে একে।
(৪)
সাগরপারে পাড়ি
দিলে
প্রবীণ আমার
সাথে আসে।
যত্ন করে রাখি তাকে,
তবুও বলে, 'ক্লান্ত,
মুক্তি দাও।'
ভোর হলে সটান
ছুটে বাইরে আসে,
খোলা হাওয়ার তীব্র
স্বাধীনতা চাও?
রোদ বাড়ে।
আর তাকে বলি,'
তুমি একবার
ছুঁড়ে দিয়ে, মুক্ত
বলছ, আবার পড়ে যেতে ঘনক
বলে 'হাত পাশা করে
দিচ্ছ'। এ কেমন
সত্য কথা?
হাত বাগানের
ছোট্ট ফুলগুলি
ছোট্ট বাতাসে
নড়ে।
তারা কি জানে
এই রহস্য উপন্যাস
এই গোপন
গৃহস্থলি যথা।
তারও কি এই
শান দীঘিতে কাউকে
নিয়ে গেছিল
বয়ে?
(৫)
আবার দাঁড়াব
আয়নার পাশে
পুনঃ ইতিহাস
গমন।
মস্ত ভুল হয়ে
যায় চোখের নীচে
আর তখন
পৃথিবীর সমস্ত
কালো জ্যোৎস্না
ঝড়ে পড়ে
সুখী গৃহকোণে।
এরপর নেই অন্য
কোন কোথা পৃথিবীর
রহস্য উপন্যাস
বিছানায় সব
শেষ হয়ে যাচ্ছে
– শ্বাস শুধু শ্বাস-
এক একটি “টাইম
পোর্টাল জোনে”।
আতপ চালে কবিতা
বাড়ে, আর কবিতাতে
বাড়ে ভুল।
এরপর কবি নিজেকে
ভেঙ্গে ‘কোয়ার্ক’
খোঁজে
খোঁজে প্লাস্মা-
ডি লা গ্র্যান্ড।
ডাক তাকিয়ে দেখে ‘খাবার
দেওয়া রইল টেবিলে’,
প্রেম ঝরে
পড়ে ঘড়ির কাঁটার
থেকে
ঝরে পড়ে “কুইক
স্যান্ড”।
‘টাইম পোর্টাল’
শব্দটি কবি বহতা
অংশুমালী মুখোপাধ্যায়ের
একটি কবিতা থেকে
নেওয়া।
Copyright ©
2020 Indranil Chakrabarty Published 1st Sep, 2020.
![]()
![]()