কৌরব অনলাইন ধারাবাহিক সংযোজন-৭
ফেব্রুয়ারী ২০, ২০১৬
কবিতা
জাহেদ সরওয়ার
===
|
জাহেদ সরওয়ারের জন্ম ১৯৭৬ সালে বঙ্গোপসাগরের কিনারে মহেশখালী দ্বীপে। এক অসম্ভ্রান্ত আধা চাষা ও আধা জেলে পরিবারে। শিক্ষাদীক্ষা চলছে। সাংবাদিকতা, প্রকাশনাকর্মী, অভিনয়সহ নানা কিসিমের কাজে জড়িত জীবিকা প্রশ্নে। ওঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ইত্যাদি। |
প্রকাশিত
বই:
১.এই মিছা
কবি জীবন-কবিতা
২.আততায়ী
একটি কবর-কবিতা
৩.বিকালের
দাসবাজার-কবিতা
৪,আরো
একটি কবিতা শোনাও
কবি-কবিতা
৫.পায়ুবাসনার
জনগণ-উপন্যাস
৬.দস্তয়েভস্কির
বই ও কোটিপতির
সকাল-গল্প
৭.রাজ্য
ও সাম্রাজ্য (রাজ্যচিন্তার
কারখানা-১)
৮.সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ (রাজ্যচিন্তার কারখানা-২)
৯. কবিতা পড়ুয়ার নোটবই- কবিতা বিষয়ক প্রবন্ধের বই।
শান্ত সাদা বাড়ি
ওখানে একটি শান্ত
সাদা বাড়ি-
যেখান থেকে নেমে আসে
মাঝে মাঝে শান্তির পসরা
এদিকে বুলেট সেলাই করছে
পিতৃভূমি আর
মাতামহদের কবর হয়ে যাচ্ছে
আগুনের ভেতর
সমুদ্র জীবনের কথা
আমাদেরও ছিল মাছের জীবন
দেহ ডুবিয়ে ভেসে থাকা
জলমগ্ন আকাশে
ইচ্ছে ভেঙে দিল
জলজ বৃত্ত বাস্প হয়ে গেলে
নিজেদের সঁপে দেই
ডাঙায়
কাঁদায় ছটফট করার ইতিহাস
এত দ্রুত ভুলে যাবে?
তৃষ্ণা তোমাকে বারবার
মনে করায়
সমুদ্র জীবনের কথা।
শব্দগন্ধ
নিঃশ্বাসের সাথে আমরা
পড়ি শব্দের নামতা
শব্দে শব্দে তৈরি হচ্ছে
নিরন্তর পৃথিবী
ওরা বলেছে থেমে
গেলেই আমার মৃত্যু।
থামিনা। নাকমুখ থেকে
বের হয় অবিরাম শব্দগন্ধ
এভাবে বসবাস করি
শব্দ আর মৃত্যু নিয়ে
ইটভাটা
যে দিকে তাকাবে
শুধু ইট, শুধু ইট
বৃক্ষদের বিদায়
দিয়েছে শহর।
প্রকৃতি বলতে
দূরে তাকিয়ে আমরা
ইটভাটার চিমনির
ধোয়াকেই বুঝি
ওখানেই তৈরি হচ্ছে
অনাগত সন্তানদের আত্মা।
শব্দ-রুটি
আমরা চেয়েছিলাম
শব্দ-রুটি খেয়ে বাঁচতে
এখানে রুটি তৈরি
হচ্ছে বুলেটে
প্রতিবেশীদের কাছে
যা চেয়েছিলাম -মরে গেছে
সে সব ভালবাসা।
গ্যারেজের ছিটকে পড়া
মবিলের আয়নায়, যার যার
মুখ দেখে
কাটিয়ে দেব
একেকটা নার্সিসাস জীবন!
মেশিনগান
তারা চেয়েছিল দুইমলাটের ভেতর
কিছু শব্দে জিতে নেবে গ্লোবটাকে
কিন্তু ডিএনএর ছক অন্য।
শব্দরাশি পরিণত হয়েছে
কেবলি বাকোয়াজে
শেষে তারা উৎপাদক
হয়েছে ভোদকা বা স্কচ
বা ঘাস আর চোলাইয়ের যোগানদার
বইভর্তি ঘরে বন্দি কয়েকজন বুদ্ধিজীবী
বাইরে সেলাই হচ্ছে নতুন পৃথিবী, কয়েকটি মেশিনগানে
গল্প বলছেন পিতা
অভাবে পড়লেই বাবার গল্প বলা বেড়ে যেত
আর বাবা গল্প বলা শুরু করলেই আমরা ভাবতাম
সামথিং রং।
কারণ তিনি পিতাবংশের একটি চরিত্রে অভিনয় করার
চেষ্টা করতেন। করেই যেতেন।
গল্প বলতে বলতে তিনি সংসার আর ভবিষ্যতের মাঝখানে
যেই ভাঙ্গা বাশের সাঁকোটা আছে ওখানে থেমে যেতেন
খেই হারাতেন গল্পের। ওদিকে তাকিয়ে থাকতেন।
শকড-খাওয়া রোগি, উদ্ধত হাত।
আমরা শ্রোতারা তখন আধেক গল্পের পরে যেই
শূন্যের বাড়ি, ওখানে বেড়াতে যেতাম।
কোষ
গহীনে কোথাও আমি দেখি নীল।
আকাশ সাদা হয়ে গেছে
পাখিরাও নীরবে পাড়ি দেবে পথ
যেন বেথোভেন বাজিয়ে চলেছে অনন্ত সোনাতা।
স্তব্ধতা যেখানকার মাতৃভাষা
কিছুই হয় না যেখানে অনুচ্চর কবিতা ছাড়া
নিষিদ্ধ হয়ে আছে কান্না
কাদার ভেতর শুধু হেটে যাওয়া পায়ের ছাপ
শব্দজব্দ
শব্দকে ধ্বংস করার
সব চেষ্টা ওরা সমাপ্ত করে আনে
ওরা হাতড়ায়
তার উৎসে
শব্দ, তোমার উৎস কোথায়?
শব্দকে ওরা বানায়
নিজের বোনের ধর্ষক
তাকে ওরা কোপায়, খুঁচিয়ে মারে
ফাঁসি ও রাক্ষসরাজ্য
ছেড়ে যাবার আগে
সাড়ে চারফুট সেলের মধ্যে
আমরা অজস্র শব্দ পুঁতে দিই।
থাবার সমুদ্র
হে সমুদ্র
আমার প্রতিপালক
প্রথম যৌনতা
অন্ধ বংশীবাদক
তার কাছ থেকে
আমাকে ছিনিয়ে
নিল একটি থাবা
এই জীবন
সেই থাবা থেকে
বেরিয়ে আসার
এক ব্যর্থ যুদ্ধ।
শব্দের জঙ্গল
এখানে সূর্যের নিচে শুধু ভয়
পলকা বন্ধুতা ডুবে গেছে
চিরতরে
এখানে নয়া শত্রু তৈরির খেলা
তৈরি হচ্ছে একই মন্ডে
নিজেকে সর্ন্তপনে বাঁচিয়ে রাখা
শব্দের জঙ্গলে
যতদিন ইঁদুর আর বইপোকা
শব্দদের খেয়ে না ফেলে
সমুদ্র সন্ধান
আগামী বছর সব সমুদ্র
নাকি পশ্চিম দিক থেকে
মরে আসবে
তবে কি করে বাঁচাবো
আমাদের এই ভাসমান বন্দর
আমাদের পাড়ার মাঝির কাছে
আমরা সন্ধান করি
একটি জীবিত সমুদ্রের
===
Copyright 2016 Jahed Sarwar Published 20th February, 2016.