কৌশিক চক্রবর্তীর
কবিতা
ভাসান
একটা তোবড়ানো
থালা নিয়ে যাদের
ঘুম আসে
তাদের পিঠের
রঙ কালো।
জানলায় ঝুলে
থাকে মটরশাক।
খিদে পাওয়াগুলো
এক একটা স্পেস
মেনে নেওয়াগুলো
আরেকটা ঠাসাঠাসি
দাঁড়িয়ে থাকে
দূরের বাস স্ট্যান্ডে
টিনের বাস্কো আর
পুঁটলিপত্তর
চাঁদ উঠলে
তাদের কথাগুলো
বুজকুড়ি লেখে
তারপর ভাসমান
নৌকো হয়ে যায়
জ্বর
নৌকোতে কে
একজন বসেছিল
হ্যারিকেনের
পোকা তাকে নিয়ে
গেল
ভুলভুলাইয়ার
বিছানায়
হু হু করে কাঁপে
ডালভাতের জ্বর
তেজপাতার গন্ধ
লাগলেও
তার বুড়োটে
পাখি মনেই করতে
পারে না
কতটা রাস্তার
পর দেখাশোনা হলে
দরজার খসে
পড়া খিল থেকে
ঘর লেখার শুরু
ঘুমঘর
ঘর পেরোলেই
এদিকের রাস্তা
তার থেকে ওদিকের
আলো
উলু হয়
ছিটমহলের ভাত
টুকি দেয় ছাদে
মেঘ তবু জানে
না –
কোথাকার বৃষ্টি
কোথায় শুয়ে পড়ে।
ঘরের দৃশ্যে
যে অস্পষ্ট রেললাইন
আর বৃষ্টির
ঘর
বৃষ্টির দৃশ্যে
যে মনকেমন লাগা
ক্লাসঘর
আর নামতা শেখা
পাখি –
তারা কিছু
আন্দাজ করে
তাদের জন্য
আজ চাঁদের দোকান
সময় পেরিয়েও
খোলা থাক
আরেকটা স্টপেজ
সময়ের দোকান
থেকে মশলার গন্ধ
তার গান গায়
ছবির বই থেকে
পেরিয়ে যাচ্ছি
দূরত্বের লতাপাতা
দেশ
দোকানের বয়েস
হয়েছে
কোনও না কোনও
নদীর ধারে
থেমে তো যাবেই
অনেকের চিকচিক
জল।
হাতের রেখার
গল্প পেরিয়ে দরজার
তালা গুনছে
নিকোনো মজুর
এক মুঠো বেশি
খাওয়ার অন্যায়
নিয়ে
গ্রাম লেখা
উনুনের মেঘলায়
পেরিয়ে যাচ্ছি
নৌকোর আরেকটা স্টপেজ
![]()
![]()