শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা

 

 

শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়-এর জন্ম ১৯৭২, শ্রীরামপুর। শ্রীরামপুর কলেজ থেকে পদার্থবিদ্যা পরে বিআইটি মেসরা থেকে এমসিএ করে বর্তমানে সফটওয়্যার চাকরি সূত্রে লাসভেগাস-এ বসবাসরত। নয় দশকের মাঝামাঝি লেখালেখির শুরু, লিখেছেন নিয়মিত-অনিয়মিত ভাবে । এ পর্যন্ত প্রকাশিত বই দুটি-- রুটির শিস ও আশ্চর্য চিরাগ এবং গুরুচণ্ডালি থেকে "যে বয়েস হরিণের নয়।

 

 

image003

 

এ শহরের গল্প

 

মাছেদের স্থির চোখ, দড়ির ঋজুতা, অদৃশ্য তর্জনী

যদিও প্রস্তুতিপর্বকালে মৎসশিকারীর খুব ঘুম এসেছিলো

জলে রঙিন আঁশের দাগ, একটি সবুজ পাতা ভেসে আছে

অনন্তকাল

 

যদিও শহরের কেউ ভালো চোখে দেখিনি এসব

তার দাঁত ও ভ্রুর খুঁত বিজ্ঞাপন হতে ভিজে ওঠে আরো এক শূন্যময় স্থান

পাড় বেয়ে দীর্ঘতর ছায়া

 

জিপসিদের উঠে যাওয়া তাঁবু,

এলোমেলো হাওয়ায় হাওয়ায়

 

 

 

কেবলি গভীর ভাবে নিজের ভিতরে

 

 

 

যাবৎ প্রতিভা দেখে অবাক হয়েছি

ভাবি জীবন নিস্ফলা কাটুক এমনি

 

যেরকম রোদ বারান্দায় পড়ে আছে দেখে

সকাল হয়েছে জানি

চায়ের কাপ আর কিছু মুড়ি মাটির উপর

শাদা ফুলের মতন, সুবাস ছড়িয়ে ওরা

পাখিদের ডাকে

 

আজ কার কাছে কথা দেওয়া আছে

ভেবেছি একান্তে, কেবলি গভীর ভাবে

নিজের ভিতরে

 

 

 

অভিজিৎ

 

সকাল থেকে খাবারের গন্ধ পাচ্ছি, একটু আগে মাংস আর এখন লুচির

আমি কি মরে যাচ্ছি অভিজিৎ!

 

এই বিদেশে ঠান্ডায় আমার শরীর ক্রমে শক্ত হয়ে আসছে

এক পাতার ভেতর দুমড়ে মুচড়ে আর ধরানো যাবেনা

বইয়ের ভেতর থেকে আমার হাত পা বেরিয়ে থাকছে

প্রতিভা ফুরিয়ে আসছে মোমের মতন

 

লুচি আর মাংসের লোভে আমি ঘুরপাক খাচ্ছি

অনুষ্ঠান বাড়ির সামনে লম্বা লাইন

নিহত পতঙ্গ আর নিয়ন আলোর নিচে নামিয়ে রাখছি মন খারাপ

 

সকাল থেকে আমি কেবলি ঘুরে যাচ্ছি

প্রতিভা ফুরিয়ে আসছে মোমের মতন

 

 

 

ফিরে আসছি

 

ক্ষুরের ধারের উপর পিপীলিকার দ্রুত পদচারণায়

কল্পনায় দেখেছি রক্তদাগ -

ঈষৎ মরীচা জমে, অসুস্থ আকাশ মেঘ

পুরনো চায়ের কাপ বরফের কুচি যেন শেষ ট্রাম

 

নিঃসঙ্গ পিরীচের ভিতর ঢুকে যেতে যেতে নামিয়ে দিয়েছে বিদ্যুৎ

ভিজে রাজপথ পেরিয়ে আসছো ঘন্টাধব্বনি মাড়িয়ে মাড়িয়ে

 

 

 

কেউ নই

 

 

কেউ নই একথা বলেছি পরিবারে

দেওয়ালে সাজানো ছবি আয়নায় দাড়ি কাটবার ছলে

কেউ নই কখন কিছুই ছিল না

ঘুম ভেঙে যেরকম আমরা সকলেই কিছুটা স্বপ্নের ভিতর কিছুকাল হেঁটে যায়

কেউ নই একথা বলেছি পরিবারে গতরাতে

 

 

 

সুখ

 

তবে তুমি সুখ কাকে বলো? মাইনে বাড়ার মত তুচ্ছ ঘটনার কালে

বাড়ি ফিরে চায়ের কাপের পাশে রেখেছো বিস্কুট

হাওয়া দিলে পর্দার ফুলে ওঠে পেট, গৃহস্থের সাধারণ কথা

এবাড়ি ওবাড়ি ঘুরে ধুলো মাখা পথে পড়ে থাকে

কে তাকে কুড়ায়? তুলে আনে ঘরে

ঠোঁটের উপরে রাখে

পুরোনো বউয়ের ঠোঁটে গুঁজে দেয় প্রেমে

 

 

Copyright 2020 Shubhendu Chattopadhyay Published 1st Sep, 2020.

image004

image005