ইয়ার ইগনিয়াসের কবিতা

Yeerইয়ার ইগনিয়াস। মূলত কবিতা কর্মী। কবিতার প্রয়োজনে টুকটাক প্রবন্ধও লেখা হয়। জন্ম, দরিয়ার শহর কক্সবাজারে ২২ এপ্রিল ১৯৯০। বর্তমান বসতি মধ্যপ্রাচ্যে। প্রকাশিত বই: হারমিসের বাঁশি (কবিতা)।

 

image003

 

মানুষ কতটা সভ্য হলো

 

 

ঘুমের গভীরে যেতে যেতে জেগে উঠি

ঘুমের ভিতর, দেখি, ইথারের জাদু।

পরিদৃশ্যমান 'কলে' তরঙ্গিত হচ্ছে

ফোনের ফেইস, যেন ঢিল-ছুড়া ডোবা।

ওপ্রান্তে হাসছে চেনা চেহারার লোক,

বয়োজ্যেষ্ঠ অফিসার ছিল অফিসের

হালে রিটায়ার্ড, সে-সুবাদে, কথা ছিল

বেড়িয়ে আসব কোনো একদিন, তাই-

তার বাড়ি যাব বলে মৌমাছির মতো

মিলিত হয়েছি আমরা কয়েক জনা

জানাহীন জনশূন্য জনপদে হায়...

 

স্মার্টফোনে বেজে যাচ্ছে অস্থির সময়,

তিনি বাতলে দিচ্ছেন সময় ও ম্যাপ

ক্লোজার হওয়ার ক্ল্যাসিক ক্যালকুলাস।

মৃত নদীর পাশেই বাংলোবাড়িটা

দাঁড়িয়ে রয়েছে তিনশ বছর একা।

পদ ও পথের রমণে একদা, ছিঁড়ে-

গেছে ঘাসের পোশাক, সেখানেই আজ

লজ্জাবতীর সংসার। দুপায়ে মাড়িয়ে

সে আসছে এগিয়ে আমার অভিমুখে

সমস্ত সন্দেহ ইগনোর করে, তার-

এগোনোর পাঁয়তারা, আমরাও হাঁটি

মন্ত্র-কবলিত ভাষাময় ইশারায়.

 

সবুজ অরণ্যে চিড়ে সাপের সহিস

একটা পথ সামনে এগিয়েছে বেশ,

পাশে পরিত্যক্ত বাংলোবাড়ি, সামনেই

শুয়ে আছে মরা গাঙ, থির স্রোতধারা,

দুইজন নিগ্রো নিষ্পলক আছে চেয়ে

নদীপানে। হাতে ছিপ, নড়চড়হীন

যেন স্ট্যাচু। কুন্তল-নখ-গোঁফ-দাঁড়িতে

আসহাবে কাহাফের কথা পড়ে মনে

 

সাঁতার না-জানা আমি, কৌতুহল হয়

মরা নদীতে সাঁতার শিখি, সাতপাঁচ

না-ভেবে নেমে পড়ি নিঃশব্দ জলতলে,

দেখি- সমস্ত মীন মেডিটেশনে মগ্ন

স্তবগান গাইছে একলক্ষ বছর

শিথিলায়নের শেষ স্তরে, জলঘরে

সশব্দ সাঁতারে ধ্যান ভাঙে মীনেদের

দিগ্বিদিক পালায় ক্ষুধার্ত জলচর

পাশ কাটে তিমি-ডলফিন-হাঙরও

মীনেরা কি ভুলে গেছে শিকারের ভাষা?

নাকি নিয়েছে তারা গভীর কোনো পণ

হতাশ্বাসদের অভিঘাত না-হানার!

জলতলে মীনেরাও সভ্য হলো তবে?

 

ফ্যাকাসে আকাশে ঘনকৃষ্ণ শ্রাবণাভ

ফর্সা মেঘের বরষা উধাও কোথাও

ভয়ানক ঠাড়া ক্রসফায়ারের মত

ঠডাশ্ ঠডাশ্ শব্দে চুরমার করে-

হিমায়িত ঘুম, উদামোদা হয়ে যাই

মুহূর্তে রাখি চোখ, আয়ত আয়নায়

খুঁটিয়ে দেখি নিজেরে, কতটা সভ্য হলাম...।।

 

 

 

 

Copyright 2020 Iyar Ignius Published 1st Sep, 2020

image004

image005