তানিয়া চক্রবর্তীর কবিতা

 

তানিয়া চক্রবর্তীজন্ম ১৯৯০। একুশ বছর বয়সে প্রথম কবিতা প্রকাশিত কবিসম্মেলন পত্রিকায়। এরপর বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও সংবাদপত্রে। কাব্যগ্রন্থ - কিছু একটার জন্য (পাঠক, ২০১৩), পুরুষের বাড়ি মেসোপটেমিয়া (সৃষ্টিসুখ, ২০১৫), রাহুকেন্দ্রিক ঋতুকাল (শুধু বিঘে দুই, ২০১৬) লম্পট (ছোট কবিতা, ২০১৭), আমিষ বিবাহ (আত্মজা, ২০১৭), জুনিপোকার আলোয় বাঁধা ঘর (কারিগর, ২০১৮), পুতুল মানুষ (সিগনেট, ২০১৯)। গদ্যগ্রন্থ- কাঠপুত্লির বৈতরণি ও অন্যান্য (বই তরণি, ২০১৮)। এছাড়া কিছু বিশেষ সংখ্যা সম্পাদনা করেছেন। স্বকীয়তা তানিয়ার কবিতার চিহ্নগুণ প্রথম থেকেই। অধিমগ্ন আত্মানুভূতি ও বিমূর্ত আত্মভাবনা প্রকাশে কাজ করে তানিয়ার কবিতা। আর তেমন কবিতার ভাষা যে নিজস্বতা চায়, সেই মালিকানা তাঁর আছে।

 

 

 

উষ্ণতা ও উল্কি

 

 

চিবুক থেকে চিবুক এক মরীচিকা

ভুলের সরণে প্রেম কেঁপে কেঁপে ওঠে

এই অকল্পনীয় সংসারে মাথা রাখি

শিলনোড়া ও শিউলি , যৌনতা ও জোর

গলা থেকে থুতনি জলে ভরিয়ে দেয়

ভাবি আরেকটু --- আরো একটু

তবু গাড়ির গতি ছাপিয়ে পৃথিবীর জল আসে

পৃথিবীর জলে শিউলি ভেসে ভেসে ওঠে

লোকে ভাবে বর্জ্য --- আসলে পুজোর পাপ

ন্যাপথলিন --- ন্যাপথলিন শোনো

প্রেমের অতিরিক্তরা কান্না ও ধোঁয়া

ন্যাপথালিন ন্যাপথালিন ন্যাপথলিন

এ গন্ধ জামার আলমারি হয়ে মেসোজয়িক অবধি

নিরাময় দিতে গেলে উষ্ণতা চায় অকারণ...

 

 

ভোলার জন্য উল্কি---দাগ দিয়ে দাগমুক্তি

ক্যাকটাসের মুখে যত অভ্যাস,

যত তীক্ষ্ণ তত ক্রমাগত নেশা ও বদভ্যাস

এভাবেই নিয়েছি তোমায়, সংকেত

যেমনে সমতলে চশমা, গাড়ি, সেফ ড্রাইভ

--- পাহাড়ে বাঁক, মদ, মৃত্যু

ঘুমিয়ে পড়ার আগে ইউক্যালিপ্টাসে রেখেছি পিঠ

আর গায়ে ছেড়েছি অজস্র সে জোঁক

তাকে দেখছি, হাত ভর্তি নুনের রাজা আমি

সাদা চামড়ায় তার কাঙ্ক্ষিত ভ্রমণ, শোষণ দেখি তবু

এ সহ্যাতীত নীরবতায় উল্কির বিপরীতে রাখি শরীর

প্রয়াসে ঘাম হয়

তবু উষ্ণশোণিত মৌলের এ দেহে নুন ছড়াই --- নুনে নুন

জোঁক মরে যায় --- মেলে রাখা শরীর শুকোয়

পাহাড়ের বাঁকে ভাতেদের সূর্যে ছড়িয়ে এসে

বসে থাকি রক্তাক্ত নির্বোধ কোনো এক আমি ---

 

 

Copyright 2020 Tania Chakraborty Published 1st Apr, 2020.

 

gadha-transparent