Homepage 56th Issue Content Editorial Cover Art by Partho Chanda পরিবিষয়ী কবিতা Your Comments Contact Us Books From Kaurab

সোমনাথ সেনের কবিতা

পারদ শাসন (কৌরব, ২০১৪), সোমনাথ সেনের প্রথম কবিতার বই, এতটাই স্থিতধী ও পরিণত, এক তিরিশ অনুর্ধের এ পর্যন্তের যাবতীয় লেখালিখি, এমন ভাবা কঠিন। সম্প্রতি সোমনাথ একটা বড় কাজে হাত দিয়েছেনএক কবিতামালা যার একাংশ এ সংখ্যায় প্রকাশ পেলো। এক অপ্রাকৃত বিমূর্ততার সন্ধানে বেরিয়েছেন কবি। বোঝা যাবে সহজেই এ ভ্রমণে তাঁর কোনো সঙ্গী নেই। তার কাছে কোনো ক্যামেরা নেই, সিডি-প্লেয়ার নেই, সিনেমা নেই। নাকি আছে? আর ব্যাগে ভরা ঝোলাগুড়ের পাশে রাখা আছে কোনো অজানা দর্শনশাস্ত্রের বই? আমরা ঠিক এখনো জানিনা। আপনি? পেশায় কম্প্যুটর ইঞ্জিনীয়র, সোমনাথ সেনের বর্তমান ঠিকানা কলকাতা।

 

অনিয়ন্ত্রণের আসবাব

 

 

এই যে হিংস্র হয়ে পড়ছ

চিবিয়ে যাচ্ছো অবান্তর ডালপালা

পায়ু দিয়ে গড়িয়ে পড়া রক্ত

লক্ষ্যভেদের যন্ত্রণা ছাপিয়ে চেটে নিচ্ছে

আসবাবের হাতদুটি

সে এক অন্ধকার প্রান্তর

যেখানে মাথা নত হয়ে থাকে

~~~

বিন্যাস ও প্রস্তুতির মাঝখানে দাঁড়াই

 

যে রোদ কখনো পলাশ দেখেনি

যে পলাশ, বিষণ্ণ হাতের কাছে নির্ভরতা পেয়ে যায়

সেই অবস্থার পাশাপাশি গড়ে ওঠে সমাজ

 

স্কুল ফেরত মেয়েদের পায়ে আবছা দুপুর

ব্যতিক্রমী হতে থাকে

প্রখর হয়ে ওঠে নিরাপত্তাহীনতা

 

বিগ্রহের কাছে ফিরে পাওয়া মুকুট

ভেঙে পড়া রঙ

এক দুর্নিবার দৌড়ের কাছে ফেলে যায় অতর্কিত যৌনতা

আমিও নিশ্চুপ শৈশবের কাছে ফিরে যাই

আবছা উনুনের পাশে

আগুনে সেঁকা বিকেলবেলা

 

~~~

শব্দ নেই বলে মৃতের মুখোমুখি বসে আছি

নীরবতার খুঁটি থেকে নেমে আসছে নির্ভার তারা

আবছা খড়ি দালানের পায়ে এই কৌতুক

মূলত শূন্যে দুলছে , আর এক অখণ্ড আসবাবের ধুলো

জড়িয়ে অলঙ্কৃত হচ্ছে সময়

 

~~~

পেরিয়ে আসছি প্রবাহ

জলের ছাপ থেকে এ সম্ভাবনায় আর মুহূর্ত নেই

নিয়মরক্ষার আগে এটুকুই দুঃখ,

বুঝবে কি করে?

 

আবছা টায়ার পোড়া গন্ধ

বারুদের মত জ্বালিয়ে দিচ্ছে হাত পা

আর এক অশালীন দেহের কাছে

মদ লোলুপ প্রাণীর ভিড় একরকম অশ্লীল চেতনা

জাগিয়ে তুলছে

কাঠের জারণে পোড়া, কলস মুখর

 

~~~

এই নিরন্তর জেগে থাকা আসবাবের নাম হোক সময়

যে ধুলো বালি ক্রমশ আঙুলের ফাঁক থেকে

গলিয়ে দিচ্ছে মোমের পুতুল

পলাতক চৌহদ্দির কাছে যেটুকু মজ্জাগত রক্ত

পরিস্ফুট করছে স্নেহ, কাতরতা

সেই বহমান বুকের সামনে গিয়ে দেখি

ভেসে উঠছে কাঠের প্রজাপতি

 

এই এক সমাহিত স্পন্দন

মাটির দাগ নিয়ে বসে আছে সারা রাত বিনষ্ট মন্দিরের কাছে

শালগ্রাম শিলার পেট হয়

বেড়ে ওঠে রক্তচাপ বুঝি, এই আড়াল

আসলে সূক্ষ্মতম চেহারার বাইরে এক বংশোদ্ভব

বিশ্বাস

 

~~~

সম্ভাবনাময় আগুনের পাশে

থেঁতলে আছে পাথর

এটুকুই স্বর, বাকি দেহজ পথের শেষে

আঁকড়ে ধরছি সমষ্টির গতিপথ

 

বিশ্বাস, এক ঢিলে হয়ে পড়া আসবাবের শব্দ

যার প্রতিটি পেরেকের গায়ে

লেগে থাকে অনিয়ন্ত্রনের চলাচল

চেহারার দিকে পরিস্ফুট হয় প্রণতি, কালচে দেহের কাছে

কতটুকুই বা কটূক্তি ছিল

কতটুকুই বা গতিপথের প্রাচীর

যা থমকে রেখেছে ব্যতিক্রম ও রোদের মধ্যবর্তী বাতাস

 

~~~

উপবিষ্ট থেকো এই নিরালায়

যে নিরাপত্তাহীনতা, প্রখর শান দিয়ে যাচ্ছে অবেলায়

ধাতব চৌহদ্দির কাছে

প্রকাণ্ড মানুষের ছায়া বেয়ে জমে উঠছে বিনষ্ট মৌচাক

 

কবচহীনতা চাউর হয়েছে সারারাত

অবশিষ্ট জানলার কাঠে

কার্যত আর কিছুই অক্ষত নেই প্রখর কীটনাশকের গন্ধে

ভেসে থাকছে কার্যক্রম

যার অযৌন পরখ, রোমশ হাতের কাছে

বিক্ষিপ্ত সীমানা খুঁজছে সারারাত

 

~~~

শহর জুড়ে বাড়ছে শীতকালীন বিলম্ব

জানলায়, বাষ্পে এই নিয়মানুবর্তিতা

আসলে ভরকেন্দ্রের দিকে সরিয়ে দিচ্ছে প্রত্যয়

প্রখর চিরুনিতল্লাশির পর

আর কতটুকুই বা জমাট বাঁধে ধুলো ধূসরতা

 

এই এক অবস্থায় শোলার মত হালকা হতে উঠি

ভেসে থাকে তার এলোপাথাড়ি অবস্থান

হালকা পাপোশের নিচে

ভিজে আশঙ্কা নিয়ে পুনরায় গোপন করা আত্মরতির দাগ

রন্ধনশালা পেরিয়ে আরও কিছুদূর বয়ে যায়

 

~~~

শেষ পর্যন্ত ফলনের সম্ভাবনা প্রখর হয়ে ওঠে

আপেল গাছের নূন্যতম পর্যায় পেরিয়ে যে বসন্ত

পুরুষ কণ্ঠের কাছে

বয়ে আনে সোনালী লিকার

এক আধখানা দৃশ্যবোধ পেরিয়ে, সেই স্মৃতিই

সহাস্য ডালপালা মেলে ধরে

 

অনিয়ন্ত্রণের আশেপাশে জমাট বাঁধে ঘুণপোকা

যেটুকু কবিতার আঁচড়

ঘাসের সাকুল্যে মুখ থুবড়ে পড়েছিল এতকাল

সেও জড়তা কাটিয়ে বয়ে যাচ্ছে পৌষ্টিকতন্ত্র বরাবর

আর এক পুরুষ্ঠ হাতের গভীরে

কিছুদূর সীমাবদ্ধ থাকে নোনাধরা দেয়াল

 

Copyright 2020 Somnath Sen Published 1st Apr, 2020.

 

gadha-transparent