আমাদের কথা

 

     কল্পবাস্তবের মধ্যে থাকতে শুরু করেছি আমরা। আর ভুলে যাচ্ছি যেটা বাস্তব ছিলো, এমনকি দু-মাস আগেও, সেটাই এখন কল্পনা। Normalcy is fiction। ডাকাত পড়া গ্রামের মতো শুধু কটা বড় শহরই ফাঁকা হয়ে যায়নি, গোটা পৃথিবীটাই। ছয় বা বারো ঘন্টার কার্ফুর মতো নয়। সপ্তাহের পর সপ্তাহ। কোথাও মাসের পর মাস। এর মধ্যে কিছু জিনিসের চাহিদা আচমকা বেড়ে গেছে। তার মধ্যে কিন্তু বইও পড়ে। সেটাই আশ্চর্য! বিশেষ ধরনের কিছু বই সর্বোচ্চ। আলবেয়ার কাম্যুর ‘দ্য প্লেগ’, গার্সিয়া মার্কেসের ‘লাভ ইন দ্য টাইম অফ কলেরা’, ড্যানিয়েল ডাফোর ‘দ্য জার্নাল অফ দ্য প্লেগ ইয়ার’, ক্যাথেরিন পোর্টারের ‘পেল হর্স, পেল রাইডার’, মাইকেল ক্রিক্‌টিনের ‘দ্য অ্যান্ড্রোমিডা স্ট্রেন’, হোসে সারামাগোর ‘ব্লাইন্ডনেস’, প্রভৃতি। আমার শরৎচন্দ্রের ‘শ্রীকান্ত’য়ে প্লেগ পর্বের কথাও মনে পড়ে। এর মধ্যে লেখা হচ্ছে নিশ্চয় অনবরত। নিশ্চয় চিন্তাভাবনা, নোট-পর্ব শুরু হয়ে গেছে পৃথিবীর নানা কোণে নানা লেখক-কবি-শিল্পীর। কিন্তু জন লেননের গানটা কেমন যেন শোনাচ্ছে। মনে হচ্ছে কে যেন একটু পাল্টে নিয়ে তাকে, গাইছে –

 

Imagine all the people / staying home in fear

You… you may say I’m a loser

But I’m not the only one

I hope some day this gets over

and the world

                       will be normal   

 

এরই মধ্যে মাস ক’য়েক আগে কৌরবগোষ্ঠীর প্রথম প্রজন্মের দেবজ্যোতি দত্ত চলে গেলেন। একেবারে ১৯৭০য়ের প্রথম থেকে দেবজ্যোতিদা কৌরবের সাহিত্যিক ও কায়িক বোঝা বয়েছেন, মিশে থেকেছেন তার ঘনঘটার কেন্দ্রে। অনেক স্নেহ, মজা, উত্তাপের স্মৃতি ঝাঁক বেঁধে আসে। আমরা দ্বিতীয় প্রজন্ম নতুন সহস্রাব্দে কৌরব পত্রিকার একটা সংখ্যায় দেবজ্যোতি দত্তের প্রায় তিরিশটা কবিতা একসাথে প্রকাশ করি। ওনার কোনো কাব্যগ্রন্থ নেই। চিরস্মৃতির দেবজ্যোতি। একে একে চলে যাচ্ছেন ওঁরা – স্বদেশ সেন, বারীন ঘোষাল, ঈশ্বর ত্রিপাঠী, দীপক চট্টোপাধ্যায়, দেবপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবজ্যোতি দত্ত…

 

 

                                                                                                আর্যনীল

                                                                                                বসন্ত, ২০২০

                                                                                                সিনসিন্যাটি