প্রত্যুত্তরী কবিতা

 

সুস্মিতা পাল

 

খরিফ

 

রন্ধ্রে রন্ধ্রে মহাকাশের ছন্দের শুরু কোনো এক কোষের বেপরোয়া লাথিতে। নাক থাকলে তা কুঁচকে, বৃহৎ শৈলীকে ঠেঙ্গা দেখিয়ে (...) কেউ বিশ্বাস করবে না এই অমোঘ সত্যিকে। কেবল কোনোখানে ব্রতীদের কোলে কোলে ঘুম পাড়িয়ে, সুজাতারা নিদ্রাহীন পাশ ফিরে শোয়- হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে ফেলে আকাশগঙ্গার লেলিহান কালো গহ্বরকে

যখন সান্ধ্য তারারা অক্লান্ত চর্কিপাকে

হামাগুড়ি দিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে যায় সেই শুরুয়াতে

যেখানে মেরুদণ্ড গড়ে ওঠে তারা-বালিতে,

বুক আগুনের ছোঁয়ায়,

উড়ন্ত রেশমি চুল বায়ুর বন্ধু হয়ে রাত কাটায়

জলে ধোয়া যোনী, কাটা দাগ নিয়ে বসবাস করে হিরণ্যগর্ভে।।

 

 

 

কোলে দুধ নিয়ে থাকি, চোখ জুড়ে বালি,

রঙীন সম্ভাব্যরা মৃত্যু বেশে হ্যালোইন

থেমে গেছে যে ঝাঊপাতা তাদের আড়াল করা মহাপাপ;

তীরে দাঁড়িয়ে পায়ে ঠেকে স্বপ্ন কোরাল,

জলের গভীরে নিরাময় পীঠস্থানগুলো

সোপান দেবে না কোনোদিন

মৃত সাগরে ভেসে ভেসে যে তোরণ যন্ত্রণার দিকে যায়

ভূমধ্যসাগরে তাই হয়ে যায় বিদ্রোহ।

তিন-সাড়ে তিনে আর আটে ফারাক আর কই

সব-ই তো তারাবাজি, আজন্ম শৈশব।।

 

 

মাতৃত্ব আমায় আমূল রূপে বদলে দিয়েছে। যৌবনে যে উপন্যাস তিন/চার রাত ঘুমোতে দেয়নি, তা ফিরে আসে অকল্পনীয়ভাবে। মহাশ্বেতা দেবীর হাজার চুরাশির মা হয়ে যাই এক মুহূর্তে। কোলের আট মাসের ছেলেকে দুধ খাওয়াতে গিয়ে চোখ আটকে যায় বালিতে মুখ গুঁজে শুয়ে থাকা তিন বছরের শিশুর ছবিতে। বুকের দুধ সেদিন শুকিয়ে গেছিল সেই তাড়সে। এই সূত্র ধরে লেখা এই কবিতা দুটি। মাতৃত্ব আর মৃত্যুচেতনা এক স্বরে এমন করে আর কখনো আসেনি। খরিফ ফসল যেমন মাটির আর্দ্রতা থেকে নিজেদের জলের প্রয়োজনীয়তা মেটায়, এমন অকাল মৃত্যু পথযাত্রীরা জীবনের স্বল্প পরিসরে, মহাকাশের কাছে ঋণ রাখে না।

 

Copyright 2018 Susmita Pal Published 31st Dec, 2018.

 

সুস্মিতা পালের লেখালিখির স্বাতন্ত্র্য এই যে সাবেকী বাংলা কবিতা ও কবিতাভূমি থেকে সে অনেক দূরে, ভিনদেশে, ভিনভাবনার আবর্তে, অর্গলে। সঙ্গে সঙ্গে তার কবিতাপ্রকাশরুচিও ব্যতিক্রমী। খুব কম কাগজে, জালিকায় লেখেন, কৌরবেই প্রায় সিংহভাগ। আগামী বইমেলায় আসছে সুস্মিতার প্রথম কাব্যগ্রন্থ হিমবাহ কথা বলে (কৌরব)। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রেসিডেন্সী কলেজ থেকে সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা। শিক্ষকতা করেছেন অতীতে।