প্রত্যুত্তরী কবিতা

 

সন্দীপন দাশ

 

 

এখন তোমার পাখীতে যে রহস্য গোড়া বাঁধিতেছে সাবধান!

কোথাও এক স্বচ্ছতোয়া নদী আছে...কুসুমের বর্ত্তমানতা...ইহার পর হইতেই দীপের জ্যোতির্ম্ময়ী ঘটনার প্রবাহ...ঐ গীতের দিকেই পোষ মানা ভয়...তাহার ঘর উত্তরের আকাশের প্রহেলিকার কিছু, সরলতার এতটুকুন ইহজগতের সহিত সম্পর্ক গঠিত...বুদবুদের অন্তঃস্থল দিয়া কোন আহ্বান ভেদ করিতে অকেজো...আর্ট যেখানে প্রকৃতিকে প্রভাবিত করিয়াছে...যখন আপনকার বক্ষঃদেশে এ মন্দির ছবি মুদ্রিত হউক...আরোহীপ্রথা দারুভূত...মানুষের গলাতে ও স্বরে কি নোনা আছে-বলিল, যে সে মন্দির সমীপস্থ অঘটন দেখিয়াছে, যে সে চন্দ্রকলা ভূমিতে-বাঁকাচাঁদ এককলা জ্ঞানের প্রতীক যেমন শিবের মাথায় থাকে-পতিত হইতে দেখিয়া বৃক্ষে উঠিতে চাহিয়াছে, ঐ কীর্ত্তির চন্দ্রকলার মনোরমত্ব তাহাকে মুগ্ধ করে, সত্যই যাহা মননে যে কোন হিন্দুজনম সার্থক তখনই...যে ইহা সত্যই, তাহাকে তিনি অনেকবারই ঐ ধ্বনি সম্পর্কে মধুর কণ্ঠে প্রশ্ন করিয়াছেন...চিঠির মধ্যে ফাঁকা-খানিক স্থান টুকরাবিহীন-সেখানে টিলার জমি গর্জ্জন করিতেছিল, পোকা, ঘাস, ফুল উদ্ধৃত, এই ফাঁক নিরখিয়া তুমি জড়, থ, তুমি আধ্যাত্মিক...কশ্চিৎ নীল পালকের হাওয়াতে ভর করত নামিয়া আসা দেখিতে আছিলেন, তাই চক্ষুযুগতে, যাহা পান ও গুবাককে সংজ্ঞাতে পরিণত করিয়াছে, মৎস্যকুমারীর গল্পর সংযম যাহাতে কি-যে-নিবেদন-করে তাহা ব্যক্ত করিতে অনেকই বাস্তবতা, অনেক ত্বাচপ্রত্যক্ষ প্রতীয়মানতা সে স্মরিয়াছে, সে অধীর আছে এই দেহে সূর্য্য উঠে ডুবে ইহা প্রমাণিত হইতেই পক্ষীর গ্রীবা কৌস্তভ মণিময় অপরিসীম দিব্য ম্যাজিকওয়ালাই তাহার উত্তর...যে সে-আয়নাতে নেহারিল মাত্র যে এক ভূমিকর্ষণকৃত জমি, পূর্ব্ব ফসলের গোড়া পর্য্যন্ত যেখানে নাই...বধির কেরেট সাপ যেমন তাহার আশেপাশে সে-ই, নিজেই, যে যাহাকে নামে ডাকিলে সাড়া দেয়, আশ্চর্য্য যে সে জল চাহিতেছে...ইহাই তাহার পূর্ব্বপুরুষ...ইহারা তাহারা যাহারা স্বপ্নের ভার বহে...সে ম্যাজিকের কৌশল হইতে, জট হইতে, ক্রমশঃ খুলিয়া সহজ...এই ভাঙা পদটুকু বড় আপনার, যে ইহা বড় বৈদিক যে এবং এখন কে যেমন বা গীত গাহিতে আছে যে ইহা তাহা নহে যাহা আতঙ্ক, যাহা বেদনা, যাহা আনন্দ, যাহা আহ্বান, যাহা মিলনকামী প্রত্যাশার ডাক যাহার এক পাখী আছে চক্ষুর মধ্য দিয়া নিয়ত বাদুড় প্রবেশ করিতেছে, ক্রমাগত শিব জয়ধ্বনির মধ্যে ডুবিতেছে কাঁড়ার(মহিষের) গললগ্ন ঘণ্টির ধ্বনি, এ-গে-ননুয়ারে ডাক, শেষরাতের মোরগের ভাঙা স্বর, ছায়ার পরিবর্ত্তন, শীতের কুয়ার জলের উষ্ণতা, সর্পের গতি সবই ঐ বুদবুদের অন্তঃস্থল দিয়া সমস্ত অস্তিত্ব এখন আর্কিটেকটনিক ব্যঞ্জনা যাহা মন্দিরের ফুলচন্দন কর্পূরগন্ধ গম্ভীর অন্ধকার মিশ্রিত অঙ্কুরিত ফাটা আম্রবীজ গীতের এক ছত্রই- এখনও অন্তরার বিবর্ত্তন হয় নাই- বার বার গাহিতেছে কি হদিশ, এমন একরেখা মোটিফ, এমন এক নিরবচ্ছিন্নতা খণ্ডিত পত্র লইয়া আসিয়াছে যাহারা তাহারা তৎপ্রবর্ত্তিত নতজানু অভিনবতম ব্রতকথার উদ্দীপনা দেখিয়াছিলেন, যাহার উপচার ঐ পর্ব্বতশীর্ষের বৃক্ষপত্র, কেননা সেখানেই প্রথম বৃষ্টি হয়, কেননা সেখানেই প্রথম দিন দেখা দেয় পশ্চিমের পত্রভেদী সূর্য্যরশ্মিতে ঘোর শব্দ উঁচাইয়া হৈ দিয়া উঠিল রোমকূপে দীপশিক্ষা অস্পন্দ শত বাত্যাতেও আপনার চাহনিতে সে অবশ্যম্ভাবিতার দিকে ছুটিল আমি ডোম আমি ডোম বলিতে ইহাই ধর্ম্মত অর্থাৎ ব্যক্ত হয় যে মনুগণের পূর্ব্বে বহুকাল হইতে আমি হারাইয়াছি!- তাহার পশ্চাতে সঙ্গে সঙ্গে রাম নাম নিশ্চিত রুমাল বিন্যস্ত করিতেছিল তাহাদের জীবনে কোথাও ব্যর্থতা নাই, কণ্ঠস্বর সেখানে ফুলেতে দিব্য হইতেছে ডালিম বেদনা আশ্চর্য্য জল সম্বন্ধে সে যে তৃষ্ণার্ত, নিশ্চিত ক্ষুধার্ত, সে যে ঘুম ভয়ে ভীত তথা পরোক্ষভাবে সে যে হারাইয়াছে, তাহা ক্ষণেকের জন্য খেলিয়া উঠে নাই, জলধারায় শেষ সূর্য্যছটায় সেই মহিমা উদ্ভাসিত হইতে ছায়া ঢাকিবার মত জোনাকী ব্যতিরেকেও বহুতেই নির্লজ্জ হইয়াছে দেহে আলোর হিলমিল কত কত মাটির অহঙ্কার ফিরিয়া পাইল, তাহার অজ্ঞানতা রেডিয়ামের স্পষ্টতা লক্ষ্য করত কহিলেন,- কবি বলিয়াছিলেন, প্রকৃতিতে ফিরিয়া যাও...কিসমিসগুলিতে রঙ ধরিয়াছে, ইহারা বহু পুরাতন হইয়াছে

 

(কবিতার সমস্ত শব্দই কমলকুমার মজুমদার রচিত পিঞ্জরে বসিয়া শুক থেকে গৃহীত)

 

 

Copyright 2018 Sandipan Das Published 31st Dec, 2018.

 

 

 

ন্দীপন দাশ ২১-১০ এর এক নতুন কবি ও কবিতাভাবুক। প্রযুক্তিকর্মের পাশাপাশি চিত্র, লিপি, কাব্যভাবনা ও কাব্য-ঐতিহ্যের নানাদিক নিয়ে ক্রমাগত ভেবে চলেছেন সন্দীপন। কৌরব অনলাইনে একটা ধারাবাহিক কবিতাবিষয়ক প্রবন্ধও লিখছেন তরুণ কবির কাব্যজিজ্ঞাসা। সে লেখায় অনেক পড়াশোনা, চিন্তাভাবনা ও প্রশ্ন তুলে আনছেন যার সাথে আন্তঃক্রিয়ায় এসময়ের যেকোনো তরুণ কবিই লাভবান হবেন।