Homepage 49th Issue Content Editorial Cover Art by David Francisco পরিবিষয়ী কবিতা Your Comments Contact Us Books From Kaurab
Kaurab ONLINE 53: Editorial

 

কুড়ি বছর! হতে পারেনা

 

কৌরব পত্রিকা, অর্থাৎ প্রিন্ট পত্রিকার বিশ বছর পূর্ণ হয় ১৯৯০-৯১ সালে। সেই সময়ে কৌরবের টেবিলে আমার যোগদান। মনে আছে সম্পাদক কমল চক্রবর্তী কৌরব-৫৭ সংখ্যার পুটে লিখেছিলেন কুড়ি বছরের এ কী কৌরব, ছিঃ! অর্থাৎ, সকল অর্থে আরো তো অনেক বড় হবার কথা ছিলো কৌরবের। তাই এই আত্ম-ভর্ৎসনা। আসলে পাঠককে জানিয়ে দেওয়া নিজেদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার মাপকাঠিটা। সে ছিলো মুদ্রিত কৌরব। আর এ? আন্তর্জাল কৌরব। তাকে ছিছিক্কার করার অনেক আগে স্কাইলাইট জুড়ে ঘনিয়ে আসে বিস্ময়।

 

ভাবা যাক ফেসবুক, ট্যুইটার, ইস্টাগ্রাম নেই। ওয়াটস্‌-অ্যাপ, স্ন্যাপ-চ্যাট নেই। এমনকি ইউ-টিউবও না। নেই অর্কুট, নেই কোনো স্ট্রিমিং সাইট, নেই নেটফ্লিক্স, নেই টোরেন্ট, এমনকি বাংলা ভাষায় একটা সংবাদপত্রের ওয়েবসাইট পর্যন্ত নেই। সোনার কেল্লায় সেই যে তোপসে মরুভূমিতে ছুটতে ছুটতে এসে ফেলুদাকে বলেছিলো কোথাও কিচ্ছু নেই, এমনকি ট্রেনলাইনটাও হাওয়া হয়ে গেছে। এ প্রায় সেরকমই।

 

তখন মোবাইল ফোনও সবে শুরু হয়েছে, সবার হাতে হাতে ঘোরার কোনো প্রশ্নই ওঠেনা। এমনকি ইয়োরোপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও নয়। সেখানে তখন অনলাইন ব্যাঙ্কিংও খুব সাঙ্ঘাতিক সড়গড় হয়নি, দক্ষিণ এশিয়ার কথা নাই বা তুললাম। এমনও একটা সময় ছিলো। আবার বছর কুড়ি আগে। আর সেই সময়েই কৌরব অনলাইন শুরু। ১৯৯৮ সালের অক্টোবর মাসে বেরয় প্রথম সংখ্যা। কুড়ি বছর আগে।

 

নির্ভেজাল বাঙালী-বিস্ময় বলতে সে সময় একমাত্র পরবাস পত্রিকা। ওঁরাই শুরু করেন ভালোভাবে। আন্তর্জালে বাংলা ভাষা। এমনকি এইচ-টি-এম-এল এম্বেডেড ফন্ট। খুব সম্ভব আন্তর্জাল শব্দটারও জন্ম দেন ওঁরা। কুড়ি বছর আগের সেই হেমন্তে ফিরে গেলে সত্যিই অদ্ভুত লাগে। হাজার বছর ধরে পৃথিবীর পথ হাঁটাটা মনে হয় কোনো ব্যাপারই না। হাজার বছরের পুরনো পারী শহর, তখন ইউরোপের বৃহত্তর; আরো পুরনো ইস্তানব্যুল বা দামাস্কাস, দু-হাজার বছরের পুরনো স্পেনের তোলেদো এইসব প্রত্নশহরের মতোই মনে হয় সেই সময়ের আন্তর্জালকে। সিনেমাশিল্পের দ্রুত উত্তরণের কথা প্রসঙ্গে একবার ১৯৬০-য়ের দশকে সত্যজিত রায় বলেছিলেন ৬০০ বছরে চসার থেকে জয়েস-এ ইংরেজী সাহিত্যের যতোটা বিবর্তন হয়েছে, সিনেমার ভাষায় তার চেয়ে বেশী হয়েছে মাত্র ৬০ বছরে। আর আন্তর্জাল প্রযুক্তিতে?

 

সেই সময়েই কৌরব অনলাইন শুরু। এ কথাটা যতভার ভাবি নিজেই চমকাই।

 

কুড়ি বছরে কোন যখের ধন জমা হলো এই সাইটে - সাহিত্য ও প্রযুক্তিগতভাবে এই হিসেবে যাবার আগে ভাবলাম কৌরব অনলাইনের প্রচ্ছদগুলো বরং আগে দেখি। আগে তো মলাট। প্রথম পরিচিতই তো সেইই। নতুন মাধ্যমে নতুন শিল্পের অবস্থানটাই বা কী তার একটা হিসেবনিকেশ করা যাক না! কৌরব অনলাইনের কিছু প্রচ্ছদশিল্পীর কাছে অনুনয় জমা পড়লো। সমকালীন শিল্পের চেহারা নিয়ে তাঁরা কে কী ভাবেন? নবীন-প্রবীণ, দেশী-বিদেশী নিয়ে আটজন প্রচ্ছদশিল্পী সাড়া দিলেন। এ সংখ্যায় এঁদের নতুন শিল্পভাবনা নিয়েই শুরু হলো আমাদের একুশে পদক্ষেপ।

 

আর একজন সাড়া দিতে পারেননি। তার কথা আজ সবার আগে মনে পড়ছে। কৌরব অনলাইন-৪৭ য়ের প্রচ্ছদ করেছিলো সে। রূপে, গুণে, সৌরভে, নম্রতায় ফুলের মতোই নির্মল এক তরুণী অমৃতা মজুমদার, আমাদের অকৃত্রিম স্নেহের পাত্রী, বন্ধু লেখক-কবি সুকান্ত ঘোষের স্ত্রী অমৃতাকে ক্যান্সার টেনে নিলো আচমকা। সামান্য তেত্রিশ বছর বয়স। ওর সেই মলাটের ছবি দিয়েই বিশ বছরের কৌরব অনলাইনের প্রথম পূর্ণচ্ছেদ টানলাম।

 

আর্যনীল

শেষ গ্রীষ্ম,

সিন্সিন্যাটি, ওহায়ও

২০১৮