কবিতা

শুভদীপ মৈত্র

 

===

 

 

শুভদীপ মৈত্রের জন্ম ১৯৮০কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস কমিউনিকেশন ও জার্নালিজম-এ মাস্টার্স ডিগ্রি করে সাংবাদিকতার পেশায় যোগদান করেনটেলিভিশনের নানা সংবাদ চ্যানেলে,খবরের কাগজেও কিছুদিন। সাহিত্য প্রবন্ধ, ছোটো গল্প, কবিতা লেখা শুরু শূন্য দশকের মাঝের দিক থেকে। ২০০৯ সালে সাংবাদিকতার চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি লেখার সঙ্গে যুক্ত। কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ছাপা হয়েছে দেশ বিদেশের নানা পত্র পত্রিকায়। প্রথম কবিতার বই জাদুকরি বইঘর প্রকাশিত হয় ২০১৪ সালে। তাঁর গল্প শূন্য দশকের গল্পের একটি অ্যান্থলজিশূন্য দশকের গল্প সংগ্রহ-তে অধুনা সংকলিত। Sachar Report & Problems of Minority in India, Marginalization and Sixty Years of Independence, West Asia Crisis নামে দুটি পুস্তিকা সম্পাদনা করেন বাংলা থেকে ইংরেজি ও ইংরেজি থেকে বাংলায় আনুবাদ করেছেন গল্প ও কবিতা বিভিন্ন পত্র পত্রিকার জন্য। একটি নাটকের উপর প্রবন্ধের বই ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন।

 

 

না দিয়ে সাজানো শরীর

চুম্বকের আকর্ষণ যতটা বিকর্ষণও তাই

সেভাবেই গ্রাম সভ্যতার বুকে জেগে উঠছে একটা গোটা শহর,

শব্দের নির্জনতায় আমি তাকে দেখতে পাই

কোলাহলশৈলীর থেকে কিছুটা সময় ভিক্ষা করে।

 

গাছটার ভিতর একটা নদী রয়েছে,

নদী নয় সোঁতা তাকে ঘিরে নিম, কাঁঠাল, শিমুল

আর জিয়াগঞ্জের ভুটভুটির আওয়াজ

পেরেক-বেধা গাছটার গায়ে কতদিনের

সিনেমা, যাত্রা, বিপ্লবের পোস্টার-স্মৃতি,

আর এমন বাকল জামা সে ছাড়তেও চায় না।

তার সামনের চায়ের দোকান জানে

ঝড় এলে উড়ে যায় ছই

তবু বিড়ি কামড়ে তোমাকে শোনায় কীভাবে

আটটা দশের প্রথম বাসটার কন্ডাক্টার

তুতলে তুতলে বকাঝকা করে ইঞ্জিনকে।

 

এসব গল্প তোমার ভাল লাগে না,

আমি তাই ক্লান্ত গলায় বলতে বাধ্য হই

দ্য ক্রাউটস উইল কাম আট দ্য এন্ড

তুমি দাঁতে দাঁত চিপে অপেক্ষা করতে থাকলে,

আর আমি দেখি তোমার ছায়ায় বেড়ে উঠছে

তোমারই প্রতিধ্বনীরা।

 

তোমার চুলে যে হাত বোলাচ্ছিল,

সে এক আদুরের বেড়ালের মতো হাওয়া

তার জিভের ছোঁয়ায় ঝরে পড়ছিল বিষন্ন শব্দের ধুলোবালি

যেভাবে আমি তোমার সঙ্গে স্নান করতে চেয়েছিলাম,

শুধুমাত্র ভাষা দিয়ে।

 

চআমারনি র্দিষ্ট ভা

নে কো নোষা

 

এতদিন না দিয়ে সাজানো ছিল আমার শরীর

আর শব্দের কাছে চেয়েছি লাইমলাইট

আমার আঙুল দিয়ে, আমার ঠোঁট দিয়ে

তোমাকে সংক্রামিত করেছি আমার না-এ

না-এর বিষে ঝকঝক করছে সে শরীর

আমার না-এ নির্মিত না-গুলো

বড্ড বেশি উচ্চকিত হয়েছে তখন

প্যা রা ড ক্সহাততালিও পেয়েছে

 

আসলে নির্মাণ হারিয়ে গেলেও শব্দেরা থেকে যায় মাথার ভিতরে

যেমন প্রেমিকা নেই তবু কিশোরেরা শুধু প্রেমের কথাই বলে,

যেমন মেঘ ও মল্লার লুকিয়ে থাকে ধানের চারা পোঁতার আড়ম্বরে

তেমনি একটা মায়া নিয়ে রয়ে যাওয়া যায়

কারণ মনো বিকলন একটা গাছের মৃত্যুর মতোই নিঃশব্দ

যা ব্যক্ত হয় না কখনোই।

 

 

শব্দের স্বাভাবিক ক্ষমতা হারালে আমরা এলিজি তৈরির চেষ্টা করি

 

আসলে আমাদের বড় দেরি হয়ে গেল বুঝতে

কতটা অপচয় দরকার ছিল

আমার মনে হত আমরা রেল লাইনের মতো সমান্তরাল দূর

তাই একটা আঙুলের দূরত্ব কতটা অসীম পর্যন্ত রয়ে যায়

আজকাল তোমার চোখের দিকে তাকালে বুঝতে পারি

সেই অসীম কি ছোট্ট একটা চিহ্ন মাত্র

আমাদের ছোটবেলার অঙ্কের খাতায় শুয়ে থাকে মৃত।

 

মৃত অসীমের থেকে টেনে এনে আমাকে জাগাও,

যদিও গ্ল্যাডিয়েটরের কোনো সমাধিফলক হয় না

যেমন প্রতিটা চমক পরমুহূর্তে সংবেদ হারায়

তবুও অমার থেকে টেনে এনে আমাকে জাগাও

আমি এতদিন তোমাকে উপমার মধ্যে খুঁজছি

মৃত উপমার থেকে টেনে এনে তুমি আমারে জাগাও

সমস্ত স্ট্রিট ল্যাম্প নিবে গেলে যেমন

তাদের পাশেই দাঁড়িয়েছিল অন্ধকার বুঝি

সেভাবে ঠাওরসম্বল তুমি আমাকে জাগাও।

 

আমার সবকটা জানলার কবাট বন্ধ ছিল,

আর তার পিছনে ঝুলত, রঙিন মাছের ছবিওলা পর্দা।

সেই মাছগুলো পর্দার দ্বিমাত্রিক জমিতে খেলে বেড়াত,

তাদের আঁকা বাঁকা পথের পৌনঃপুনিকতা

আমায় শিখিয়েছিল উদ্দেশ্যহীন টিঁকে থাকা।

সেই আঁটকপাটি ঘরের ভিতর আমি মেলোফোবিক হতে থাকি

আমি তো কার্নিশে পেতে রেখেছিলাম টিন

যাতে খ্যানখ্যানে শব্দে বৃষ্টির আওয়াজ আর গান হয়ে না ওঠে,

লিরিকালিটি আর তোমাকে এই দুই বর্জনের চেষ্টাই

একমাত্র সৃজন প্রক্রিয়া বলে বুঝেছি, কারণ

প্রকৃতি ও পুরুষের অরগ্যানিক সৃষ্টি ভাবতে আমার গা গুলিয়ে ওঠে

 

 

উপসংহার সংহারে যখন...

 

উপসংহার হয় না, তাই সৃষ্টি বলে কিছু নেই এই হাঁপ-ছাড়া জায়গায় অন্তত জড়ো

করতে পারি না গুলো। এমন করে বিস্মৃতি-বাক্সে কত কী জমলো তা বুঝতে পারার

উপায়ও থাকে না কারণ বুঝতে গেলে সে আর তখন বাক্সে আঁটবে না। এইভাবে উপমা

সম্বল হতে গিয়ে তোমাকে এবং প্রত্যেকটা হয়ে ওঠাকে আস্তে আস্তে হারাতে পারব

বলে মনে হচ্ছে, কিন্তু প্রত্যয় নেই, প্রত্যয় এমন জোরালো একটা শব্দ যে তার পাশে

হারানোকে টেনেটুনেও আনা যায় না। কাজেই তুমি বা আমি অসীমে মিলব বলে যে

আভাসটুকু সেই আভাসের তাম্রকূট পানরত মনে হচ্ছে আরো কয়েকটা বছর কাটিয়ে

দিতে পারব.......

 

===