কবিতা

শুভ আঢ্য

 

===

 

 

উত্তর কলকাতায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা, স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ও ম্যানেজমেন্ট। লেখালিখি বলতে মূলত কবিতা লেখার চেষ্টাটুকু জারি রাখা... বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় এবং ওয়েবম্যাগাজিনে। প্রকাশিত বই - ব্লেড রানার, ধানসিড়ি প্রকাশনী, বইমেলা ২০১৭।

 

 

 

 

ইরো-ঠিক অথবা ইরোটিক

 

মৃত্যুই যৌনতার শেষ মাত্র নয়
ওদিকে ওই কাঠের বাগানের ভেতরে কসাইও
প্রেমিক হয়ে ওঠে আর স্থির চোখে মৃত হাওয়া বসে যায়
বরফকলে, মাংসের পাশে ও আঁশে

 

যদিও প্লেজার শুধুই এক প্রক্রিয়ার প্রলেপ
জীবিত জনগণ দরদী হয়ে ভাবে, আর শবের অণ্ড তুলে
দেখে গত জীবনের ওপর কতটা মুতেছিল লোকটা

 

কতটাই বা নিষেক ঘটানোর সময় বুঝেছিল
মৃত্যুই যৌনতার শুধুমাত্র শেষ নয় এবং কাঠের
বাগানের বাইরে কারিগর চোখে ভলকানো হাসি নিয়ে বসে
তুলে দিচ্ছে আচ্ছাদন আর প্লেজার মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই
বেরিয়ে আসবে মাংসের ঢিপি থেকে, বসন্ত বেরিয়ে আসবে
এমনকী পেরিয়েও

 

আর হাওয়া খেলে যাবে চুপচাপ কসাই আর মাংসের মাঝে
করাতের মত, বরফকলের মধ্যে থেকেও মৃত জল ভেসে
ওঠে শেষে, খসে যাওয়া পাতার মতই

 

 

একমুখী চুম্বন আসলে স্থির তড়িৎ
তার উৎপত্তি আছে, শরীরের যেখানে যেখানে
ব্যাকটেরিয়া জন্মায় না আজন্মকাল, আর সেগুলো রাখা থাকে
বরফের দেশে, সেগুলোকেই ঘরের বাইরে থেকে
আন্টার্কটিকা মনে হয় এবং ওই ঘুমন্ত স্ত্রী ইয়েতি
ভাসিয়ে দেয় ঠোঁট, চুম্বনরস তার টকে যাওয়া দেহ থেকে দেখি

 

অথচ আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যে যতটুকু শ্বাস
রয়ে গেছে তাদের ঋণ শেষের সময় একটা করে বাল্ব জ্বালিয়ে
উষ্ণ করি অপরের দেহ, ঠিক আটটা বেজে পনের মিনিটে

 

ব্যাকটেরিয়া জন্মায় না কোনো, আমাদের স্থির তড়িৎ
তড়িঘড়ি নেমে যায় আনত লিঙ্গ থেকে, আর নীল রঙ
গাঢ় হয়, দেখে...ধমনীর ওপর, এভাবেই চুম্বন চিবুকে লাগিয়ে
সরে আসা হয় আমাদের

 

 

বেছে বেছে জড়ুলের ওপরেই বসি
তার শরীর থেকে পুরোনো গন্ধ হারিয়ে গিয়েছে বলে
পথ হারালো কুকুর, আর ওই কেকের তিনদিক ক্রিম
বাকি একভাগ আইসিং... আমি বিনা ভাগে খাই

 

তার স্তনের ওপর আমি বসি, এমনকি দু'ঘর ছেড়ে
সোয়েটারের ওপরেও বসে থাকা হয় আমার,
বাদ চাদরও কি যায়... আপেলরঙা ভালবাসা আমার
পা ফাঁক করে বসে যোনির ওপরে, চূড়ান্ত প্লেজারের আশায়
অথচ সব কাঠ থেকে আমি উইলো জঙ্গল খুঁজতে ভুলে গেছি

 

আমি দ্বীপের মত যাই মাংসের দোকানে
ঠাণ্ডা রাস্তার তলায়, যেখানে বসন্ত শেষ হয়ে আসে এবং

বেছে বেছে বসি আমি ক্ষতের ওপরেই
অথবা বসলেই তার তলায় ক্ষত হয়ে যায়

 

সেখানকার কুকুর হারিয়ে গিয়েছে আর চাবি আমি
তালার ভেতরে নামালে দেখি কেকের তিনদিক ক্রিম,
বাকি একভাগ নিয়ে কে'ই বা ভেবেছে কবে!!

 

 

ডিউটির বাইরে পা নড়ে না
যতটা নড়লে তাকে আন্দোলন বলা যায়
ততটাই এই মাংসের মাঝে আমাদের ভালবাসাগুলো
রক্ত চাইছে, অতএব মনের ডানদিকের দেওয়ালে
এগিয়ে আসছি, দেখছি মৃতদেহগুলো স্বর্গের রাস্তায়
হাঁটতে হাঁটতে আরও ক'বার মৃতদেহই হয়ে উঠছে

 

অথচ প্রেম জোঁকের মত ছেড়ে তখনও যায়নি তাদের
এবং অভ্যাসবশত সেক্সটয়ের মত আয়াম রাইডিং টু দ্য হর্স...
আর দেখছি তাদের জিভ, যা আনকোরা ফুলের রঙের মত
বেরিয়ে এসেছে, আমাদের পারলৌকিক ভালবাসা
বেরিয়ে এসেছে, অথচ ডিউটি করেই যাচ্ছি আমি, ফাঁক করা পা
এখন প্রস্রাবাগার আর সঙ্গমের মাঝে তফাৎ বোঝে না

 

 

দরজার বাইরে সেই আমিবসি বিলিতি কাঁটাঝোপের মত
চাইনিজ চেকারের দানে তোমার বোঁটা তুলে দিই
তোমার অন্তরমহল বলে যা কিছু সূর্যমুখী বেচে দিই, অথচ
কারণ জানতে পারো না তুমি, আর শীতার্ত হয়ে ওঠো

 

তোমার শরীর এক আন্দামান, আমি জেলখানা খুঁজি
হলুদ বালির মতো এবং কোনো অরণ্যদেবের সাথে
দেখা হয় না আমার, কারণ এখনও আমি দরজার বাইরেই

 

তোমার বোঁটা গর্ত পেরিয়ে যায়, হাত রাখি
আমার হাতে মেঘ অ্যাসিডের মত খেলা করে
তুমি ক্ষার হয়ে ওঠো,এমনকি প্রক্ষালনও
লিটমাস গিরগিটি পায়ে আমাদের কাছে আসে
রঙ আমাদের বয়ে যায় ব্ল্যাকবোর্ডের দিকে, কাউন্টারের দিকেও
এই ফেব্রুয়ারির চোদ্দ আমাদের বাঁচাতে পারে না,
এমনকি মারতেও পারে না আর...

 

(ঋণ সবকটি কবিতার আধার জর্জ আর আর মার্টিনের মিটহাউস ম্যান)

 

 

===