কবিতা

সায়মা হাবীব

 

===

 

 

সায়মা হাবীব। জন্ম ১৯৮৮ সালের ৯ এপ্রিল, বাংলাদেশের চট্টগ্রামে। বতর্মান নিবাস ঢাকায়। ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর। কবিতা প্রকাশিত হচ্ছে ২০০৯ সাল থেকে।

 

 

 

 

আজ চিঠি দিবসে

 

চুয়াডাঙ্গা যায় আমার চিঠি, মহেশখালি

যায়, উদ্বাহু পার হয়ে যায় নদীখাল আগন্তুকের তেজে

উড়ে যায় উজিয়ে লোকালয় শুধু লোক ভয়

ডিঙিয়ে যায়না তোমার উঠানে একমাত্র তোমার

পরপরাগী ফুলে ফোটেনা ফল জোটেনা ফল ধরেনা ফল

খামেখামে পরাগ রেণু বিবর্তনে মশলা হয়ে পড়ে

 

 

স্নায়ুদাহ

 

জল ও বায়ু মিলে যখনো জলবায়ু হয়নি তখন থেকে

এই বিস্তৃত বিন্দুতে আমাদের চলাচল ছিল, ওই অন্তহীন

রেখার প্রান্ত থেকে পাতা ঝরার আগে যে নির্জন

ধোঁয়া ওঠে সেখানে তখনো লেপটে ছিল মায়া

বিজলিধর সকালগুলোতে, আঁৎকে উঠলে হাওয়া দ্রুত

বর্ধনশীল গন্তব্যে ছড়িয়ে পড়ত তারা, প্রহর ছুটত

ফুঁয়ের আগে যে ধূলি ছিল ধরিত্রীর দেহে

তারা ছিলতে মনি নিস্পলক

এখন বায়ু শিখেছে স্নায়ুদহন

জলীয়বাষ্প করে নিচ্ছে তার জলকে, বিন্দুর দৈর্ঘ্যে এসেছে

স্থিতি ও সম্পদ আর আমাদের আত্ম জীবন ফুটছে

অন্যতর দৌরাত্ম্যে

 

 

প্রযত্নে অমুক

দু'মিনিটের যে মহাকাল অতিক্রান্ত হল

তার ঘাড়ের ঝোপে ঘাপটি মারা যে সজারু

তার চোখের কাচের ফাটল বেয়ে জলোচ্ছ্বাসে

ভেস্তে গেল যেসব কুঁড়ে সেই প্রাসাদের উঠান জুড়ে

তালির মতো ঠাসঠাস যে গালি পড়ে সেই গালিদের

চিৎকারে যে ঘুম ভাঙ্গেনা সেসব ঘুমের ঠিকানাতে

ব্যস্ত চিঠি

 

 

অবক্ষয়

 

যেটুকু স্পর্ধা নিয়ে শিক ভেঙ্গে

ফেরার হয়েছে আসামী

একাত্ম হয়েছে রাত

সেটুকুর সাথে, ছড়িয়ে দিয়েছে নিজস্ব ব্যগ্র ডানা

পৃথিবীর অপরাধী একটি সন্তান

আশ্রয় নিয়েছে আরো গভীর অন্ধকারে

 

 

সুষমিত সুরভি

 

কীসের সুগন্ধ পাই, সুষমা

সুগন্ধ আমার নাক থেকে ছড়িয়ে পড়ছে রন্ধ্রে রন্ধ্রে

কীসের প্রবাহ, সুষমা?

পোড়া গন্ধ আমার শরীর ভর

অজস্র আগুন কতকাল

তাণ্ডব দহনে খাক করে রেখেছে আমাকে ;

ফুলের কাছে যাই, ফসলের কাছে আসি

আমার নিজস্ব ঘ্রাণ কিছু সইতে দেয় না আমাকে

আজ কী সুগন্ধ পাই সুষমা!

সুগন্ধ আমার নাক থেকে ছড়িয়ে পড়ছে রন্ধ্রে রন্ধ্রে

কীসের প্রবাহ?

অনিচ্ছা আমার নাকে, সুষমা

বোধ করি নিজেকে সুরভি থেকে রেখেছি দূর বহুবহু কাল

কিন্তু খরা আছে, খরা থাকে

অগ্নি অগ্নি সুষমা, আগুন আমার চোখ আমার

নখ আমার কপাল জ্বালিয়ে দিয়েছে,

আজ কীসের সুরভি সুষমা

অন্য ঘ্রাণ, প্রশ্বাস বদলেছে নাকি

আমার নব্য নাক, সুষমা

অন্য ঘ্রাণ বয়ে আনছে কালান্তরে

 

 

হাসিতে হাসিতে এই ক্রিয়া

 

পরস্পরের মধ্যে অভেদ ধার্য করে যেসব

দরিয়া-রূপ-দিলরীতিকে অতিক্রমের আগে প্রকৃষ্ট রূপে

কাশহনতাদের সুবাসে ঈর্ষান্বিত দেখি

শীর্ষ চক্রী, তার তীক্ষ্ণ চন্দ্রহাস

অট্টহাস্যে উড়াইয়া দেয় মন্দ্রধূলি যুক্তি দ্বারা

সঙ্গত এই দৃশ্যগুলির গাত্র থেকে আঁশ ছাড়িয়ে

নেবার আগে কিছু সুবাস ফলছে ফলে

এইসব ঘটনাবলী হ্রস্ব কিংবা দীর্ঘতর ছন্দে বেজে

চলতে থাকবে, চক্রীগণ পাকেচক্রে ফলনশীল বাণী থেকে

পেড়ে আনবেন ফল; অনেক দূর পেছন হাঁটছি, বিশ্বম্ভর,

শস্ত্রহীনতবু তুমি নিমিত্তার্থে আমার

 

 

দস্তখত

 

সেটা ছিল এক উজ্জীবন, যখন

পাখাগুলো উড়েছিল, কিন্তু পাখিরা

রয়েছিল স্থির, অকৃপণ ঘুমে

আপাত-ব্যস্ততা থেকে ছিল অবসর;

ঐকান্তিক বিলয়ে নেই হয়ে গেছিল কখন

সেইটুকু রাত;

শর্মিষ্ঠা-নাটকে

আরো অস্ত্রশস্ত্র চাই, ইস্পাতের ঝনঝন

পূর্ণচন্দ্রকলা

চাই; শান্ত সান্ত্রীরা উদ্বেল

অনায়ত্ত চিত্রকরএঁকেছিল তীক্ষ্ণছবি

কীভাবে; জাদু-করতার

স্বল্পতম টানে দিয়েছিল প্রাণ

সেই পটে

সে এক ব্যতিক্রমী উজ্জীবন,

সৃষ্টিরা ঘুমিয়েছিল

বিলক্ষণ ব্যস্ততায় স্রষ্টাগণ

চর এবং অচর এক করে চরাচর বানিয়ে দিল!

দ্বিপাক্ষিক সব লেনদেন

চুকিয়ে দিল এক দস্তখতে

 

===