কবিতা

রিমি মুৎসুদ্দি

 

          ===

         

 

 

দিল্লির দ্রুতগামীতার মধ্যে আচমকাই খুঁজে পাওয়া নিজেকে। খোঁজ অবশ্য আজীবনই সঙ্গী হবে। তবে খুঁজতে খুঁজতে পেয়ে গেছি অনেক গদ্য(নষ্ট, পবিত্র), সংলাপ, ধোঁয়াশা, আতসবাজি, আরো অনেক কিছু যা বর্ণনা করতেও আবার নতুন করে কোন একদিন বসতে হবে শব্দ, অক্ষর আর বর্ণমালা নিয়ে।

অর্থনীতির শিখক, অল্পস্বল্প লেখালেখি কখনও আনন্দবাজার ডিজিট্যাল নিউজে কখনও বা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়, ওয়েবম্যাগাজিনে। ভাল লাগে মানুষকে জানতে, প্রতিটা জানা এক নতুন গল্প হয়ে ধরা দেয়।

 

 

 

 

তারপর একদিন

 

তারপর একদিন তিনতলার ঝুল বারান্দার নীচে

ক্রমশ ঘন হয়ে জমা হওয়া শ্যাওলা আর আগাছাদের শিকড় জুড়ে

নতুন গল্প, নতুন ষড়যন্ত্র, নতুন ইতিহাস লেখা হবে

নিরিবিলি নিজস্ব রাস্তা দিয়ে বয়ে চলা স্রোত থমকে দাঁড়াবে

সব ডিলিট হয়ে যাওয়া সংলাপগুলোর সেদিন সত্যিকারের মৃত্যু ঘটবে

আর আমি সেই মৃত্যুকে নিজের করে নেব,

নিশ্চিন্তে ভারমুক্ত পা ফুটপাতে তুলে নেব

 

তারপর একদিন অলীক অবাস্তব অথচ প্রখর বাস্তব

যাবতীয় কথারা ক্রমশ লম্বা হতে হতে ছুঁয়ে ফেলবে আকাশের শূন্যতা

সেই খোলা আকাশের দিকে চাইলেইআর বাতাসের শব্দ শোনা যাবে না

রাতের ত্রিফলা আলোর নীচে জমে থাকে অন্ধকার

শুধুই প্রেতনৃত্য করবে কোন এক গাছ গাছালির জ্যোৎস্না ঢাকা ছায়ায়

 

তারপর একদিন গ্যালারি কাঁপানো হর্ষ জুড়ে

পুরোন অপমান ময়দানে নেমে পড়বে

কোন এক ঝুমতামাক মধ্যাহ্নে সেইসব আদিমতা জেগে উঠলে

মুছে যাবে গৃহস্থের উঠোন জুড়ে ছড়ানো কৃত্রিম সভ্যতা

 

 

যুদ্ধ

 

যুদ্ধ আরম্ভ হয়েছে টের পাওয়ার আগেই

দেখি আমার উঠোন জুড়ে সারি সারি সৈন্য

নতুন করে রোলকল চলছে

আমার গোটা বাড়ীটাই হয়ে গেছে একটা ক্যাম্প

সাজো সাজো রবে প্রত্যেকে তৈরি অস্ত্র হাতে

এসব অস্ত্রের নাম আমার জানা নেই

ভারী বুটের আনাগোণায় বাতাসে মিশে যাচ্ছে বিষাক্ত ধুলো

আমার রান্নাঘর, ড্রয়িংরুম জুড়ে যুদ্ধ প্রস্তুতি চলছে

ছোট ছোট শিশুরাও এসেছে আজ এই ক্যাম্পে

খেলনানয়, বইনয়, সবার হাতে আজঅস্ত্র

নির্বাক নিশ্চুপে এই প্রস্ততি দেখতে দেখতে

আমার হাতে এসে লেগেছে রক্তের দাগ

আমার চারপাশে ঘাতকের মিছিলে

আমি নিজেকেই ক্রমশ দেখতে পাচ্ছি

আর একটু একটু করে আমার বাড়ি, আমার ভালবাসা

বিশ্বাস, ভরসা সব গুঁড়িয়ে মিশে যাচ্ছে

 

 

ট্রাভেলগ

 

যেখানে নতজানু হয়ে চুপ করে বসে থাকার কথা

সেই শান্ত সবুজ শস্যখেত জুড়ে শুধুই বিতৃষ্ণার চাষ হয়ে চলেছে

এই চলন্ত বিশ্বব্র্যাণ্ডের প্রিমিয়াম তকমাধারী শহরে

এখনও খড়কুটো আঁকড়ে অপেক্ষা জারী আছে

স্ট্রীটলাইটের আলোগুলো সব নিভে গেলেই জোনাক-প্রদীপ জ্বেলে

একে একে শব্দ অক্ষর আর বর্ণমালাদের নিয়ে সেজে উঠবে সংসার

জলের কাছে পৌঁছে যাওয়া সব রঙিন পরাজয় গুলো

ছোট ছোট কাগজের নৌকায় ভেসে বেড়াবে

ছোটছোট স্রোত সেইসব স্বপ্নগুলোকে ঠিক ভাসিয়ে দেবে নর্দমায়

আর এইভাবেই প্রতিটা ট্রাভেলগ শেষ হয়ে যাবে

 

 

হেঁটে চলা

 

পড়ন্ত রোদ্দুরে জামা মসজিদের পিছন দিয়ে হেঁটে চলেছি

যেন গতজন্মের পথ খুঁড়ে পুণর্জন্মের শোক জেগে উঠছে,

মরিচীকার ফোয়ারায় ক্রমাগত বের হওয়া গুঞ্জন ধ্বনির মোহে

এক এক করে মৃত্যু হচ্ছে নতুন একটা বিশ্বাস, ভরসা, ভালবাসা

মুঘল ইতিহাসের কুলীন, কালিধুলোময় রুখু বাতাসে

ফুসফুসে মিশে যাচ্ছে নীল বিষ

যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যে সদ্যবিবাহিত দম্পতি একে অপরকে আলিঙ্গন করছে

সেদিকে তাকালে বদলে যাচ্ছে প্রত্যেকটা মুখ আর মুখোশ

আমি দেখছি আমারই অবয়ব ঠোঁট ছোঁয়াচ্ছে কোন এক পুরোন ঋণের গভীরে

অথচ বারবার বদলে যাচ্ছে সেই ঋণী ঠোঁটের অবয়ব

কোন ঠোঁটের জন্যই কি কোনদিন যোগ্য ছিলাম আমি?

নাকি সম্পর্কহীনতাই পরিণতি পেল কাহিনীর?

হঠাৎ শীত করে ওঠে, সিগন্যালের পরিণতিহীন লালের সামনে

সব বিপণ্ণতা ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে কেঁপে উঠি

শস্যদানারমত এখনওতো সাজিয়ে রাখা হলনা কিছুই!

ক্রমশ সান্ত্বনা পুরস্কারের মত উত্তাপহীন বিষাদ

এগিয়ে নিয়ে যায় হেঁটে চলার গভীরতাকে।

 

===