কবিতা

নীলাব্জ চক্রবর্তী

 

===

http://www.kaurab.com/K2016Updates/KO2016-13_files/image003.jpg

 

 

নীলাব্জ চক্রবর্তীর কবিতার সুরেলা রেশ রয়ে গেছে যে সমস্ত কাগজে তার অসম্পূর্ণ তালিকা প্রথমে - কৌরব, নতুন কবিতা,, ভিন্নমুখ, জার্নি৯০স, বৈখরী ভাষ্য, বাক্, অ্যাশট্রে,বুকপকেট ওয়েবজিন, কালিমাটি, ঐহিক, শূন্যকাল,অবসরডাঙা প্রভৃতি। এই সমস্ত কবিতা গ্রন্থের রূপ ধরে এসেছে তিন ক্ষেপে, তিনবার -  পীত কোলাজে নীলাব্জ(২০১১, ৯য়া দশক), গুলমোহর... রিপিট হচ্ছে (-বুক,২০১৩, বাক), প্রচ্ছদশিল্পীর ভূমিকায় (২০১৪, কৌরব) ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত উপন্যাস - কোনও চরিত্রই কাল্পনিক নয় (বাক্) নীলাব্জকে সিডিউস করে গানের পুরনো আর কবিতার নতুন; আর লিঙ্গারিং স্বপ্ন বলতে - মনের মতো একটা শর্ট ফিল্ম তৈরী করা। কার মনের মতো? বলুন না, আপনি।

 

 

 

 

 

বিস্মৃতি

 

হলুদ দরজা ঠেলে

একটা দিন

সরে আসছে বিস্মৃতিগুলোর ঘর

এবড়োখেবড়ো

সম্পর্ক একটা কবে খুব মেরুন হোলো

সুতোর পালিশ জুড়ে জুড়ে

কার আগে পরে রিলেট করলো

একটা ভুল সময়

ফুলে ওঠা বাদামী ক্যালেণ্ডার দেখছ

স্লো মোশান

আর

চিঠির উল্টোপিঠে যতো বরফ

যতো ম্যাপের গায়ে ম্যাপ লাগছে

ছবিতে ধরা পড়লো না...

 

 

কাগজের মতো

 

নতুন বইটার কথা ভাবছি

অধিকারবোধের কথা

এভাবে হাত থেকে পড়ে যাচ্ছে

অনেকটা আয়নার গন্ধ

দু-চার ডজন নীলাব্জ চক্রবর্তীর মধ্যে

আরেকটা তোমার জীবন ছিল কাগজের মতো

তাকে এবার

এই তো আপনি বলছি কালো জামায়

এবার আমায় শান দিন ধার করুন

প্যাডল ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখুন

ওখানে আলো পড়তে

লিনিয়ারিটির ধারণা-টারণাগুলো

ক্যামোন বেঁকে বেঁকে যাচ্ছে

অথচ হর্ন শুনলেই

আমরা সবাই একটা বাড়ি আঁকা ক্যালেণ্ডারের ভেতর

আর তারপর

একটা কার্ডের খুব জন্মদিন হোলো...

 

 

কয়েকটা ছোটবড় অক্ষর

 

শব্দ এক প্রবণতা

ভাষার অক্ষ বরাবর ঝুঁকে আসা পুরনো বিকেল

তাকে সমীকরণ বলো

আর বড় হয়

তোমাদের বহুদিন একঘণ্টা বাড়ির পথ

হ্যালো বলতে বলতে

খুলে রাখা কবিতার লাইন

জলের ভেতর চলে যাওয়া

সহজ

পাথরের সম্পর্কের ভেতর আরও

অথচ সুরটা কিছুতেই

আন্তরিক হচ্ছেনা একাত্ম হচ্ছেনা

তার দিকে

আমি কয়েকটা ছোটবড় অক্ষর ছুঁড়ে দিলাম...

 

 

মোহ

 

লেখা তো শরীর

তার আক্রমণযোগ্যতাটুকু নিয়ে

এই এক গাছজন্ম

ওয়াগন টিপলারের দিকে

একটা বর্ণান্ধ আয়না বারবার

আঙুলছাপের জন্য যেভাবে

চলে যায় বোতামসভ্যতায়

তবু

পাশে পাশে কে অক্টোবর হোলো

মোহ শব্দের ভেতর আর বাইরে...

 

 

নো রিটার্ন ভাল্ভ

 

অথচ প্রথম শব্দটি

ক্রমশঃ বেঁকে যায় শীতকালের নীল দিকে

মেয়েটির দিকে

সরে আসে

পোস্টার বদলে বদলে

গলে যাওয়া বিশপ লেফ্রয়

 

এরপর বাড়ি ফিরবে পুরনো সন্ধ্যেগুলো

রাস্তাগুলো বাড়ি ফিরবে

মাংসের বাইরে যেটুকু আলোছায়া

ভাষা আর বিজ্ঞাপনের মাঝের বিরতিতে

টাউনশিপ খালি করে

যে শব্দগুলো

চলে গ্যালো নতুন কোলিয়ারির রাস্তায়

তারা একদিন ফিরে আসবে

 

 

শরীর

 

আমাদের সেতু জুড়ে

কিছুটা বাদামী ছিল এই হরফ বিনিময়

 

আঙুলের ভেতর যেমন সকাল হয়

পুরনো সংখ্যার ভেতর

যেভাবে ভাষার পাশে ছোট ছোট স্খলন রেখেছে

স্মৃতি

 

আমাকে শরীর করে ছাতিম-পরগণা

 

 

তোমার কবিতা

 

একটা একটা পোশাকের নাম

মুহূর্ত

এভাবে দূরত্ব লিখছি

আর টুকরো টুকরো হয়ে দেখছি

আমার আঙুল নিয়ে অন্য লোকেরা দৌড়ে যাচ্ছে

অ্যাটেণ্ডডেন্স মেশিনের দিকে

দৌড়ে যাচ্ছে

অন্য অন্য সময়

লাকি অক্টোবর জুড়ে

পুরনো আঙুল

কে মিস করছে আবার

ক্রয়ক্ষমতা নামের ধ্রুবক

ঘোলাটে আয়নার পাশে

ভাষাধর্ম বুনছে

 

আস্তে আস্তে

বেলুন ফিরিয়ে দিচ্ছি আমরা...

 

===