কবিতা

অর্পণ বসু

 

===

 

 

অর্পণ বসু তরুণ কবি, (জন্ম ১৯৯৪), ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র সিটি কলেজে, এখনও জানেন না ভবিষ্যতের জীবিকা কী হবে, তবে এটুকু জানেন, কবিতার পাগলামো তার পরীক্ষার জন্য হানিকারক।

 

 

 

মৃত্যুর দেবতা

 

এই স্মৃতির আখ্যান দিয়ে কোনো দিন তুমি জীবন কে দেখবে

শান্ত ছায়ায় মৃদু-মৃদু কাঁপতে

শূন্যতার লগবুকে লিখে রাখবে তুমি আলো নিভে গেলে

তবে জেনো,

তাকে তুমি শুনতে পাবেনা...

শুধু এক অদৃশ্য মরুঝড়ে, আরেকদিন

তুমি হেঁটে যাবে স্ফিংসের দিকে

দোমড়ানো বেড়ালের লিপি স্তম্ভে খুঁজে যাবে সুর

আর ঠিক সে সময় ছবি কে কোনও ভাষা মনে হবে না তোমার

কোনও গান মনে হবে না...

বরং, মনে হবে প্রতিফলনমৃত্যুর বিষণ্ণ হিয়ারোগ্লিফিক

যা শরীর গড়িয়ে নেমে আসবে

আত্মায়

আর্তনাদে

 

ওহ্ আনুবিশ!

 

 

বিচ্ছেদের পর

 

দেয়ালের কোনও কান না থাকলে ঘরের মেঝে ফুঁড়ে

অদৃশ্য কান্না উঠে আসবে

কফিশপে দেখা যাবে যৌন প্রতিসরণ স্থিরবেগে, থিটাকোণে

শারীরি কন্যায্যতা মান্য করেই

তুমি হঠাৎ খেয়াল করবে সেই মুখ, যে তোমায় পেন দেয় পেনকিলার দেয়

 

 

শেষ হয়ে যাওয়া মানুষের লেখা

 

শেষ হয়ে যাওয়া মানুষের বোতলে

কোনও জল থাকে না

ফুরিয়ে যায় তাদের ভালোবাসা, অস্তি-মজ্জাবোধ...

তাই, তারা তখন হেঁটে বেড়ায়

সড়ক ছেড়ে

ফুটপাতের ধারে, ট্রামে-বাসে

কখনো হাসে কখনো কাঁদে

কখনোবা আড়চোখে

সিগারেট জ্বালাতে জ্বালাতে পড়ে নেয় বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ

তাদের কোনও ভয় লাগেনা

কেননা তারা ভালো মতই জানে

আজ-কাল করে পৃথিবীও একদিন, ঠিক

শেষ হয়ে যাবে

ধ্বংস হবে মানুষের অযাচিত বিস্ময়বোধ

 

আর তাই এই শেষ হয়ে যাওয়া মানুষগুলো

শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে চায়

পৃথিবীর শেষ দেখবে বলে

 

 

ইকোসিস্টেম

 

Life comes a full Circle

 

চলো আজ গোল হয়ে বসিপুরনো ঘুমের পাশে মেধা বিকেলে তুলে রাখি সম্পর্কের

কথাসম্পর্ক! ...এক টাকা চের বোতল যার মধ্যে পরিষ্কার একটা ইকোসিস্টেম থরে

থরে ঘুলিয়ে উঠছে

চলো চলো গোল হয়ে বসি নিহিত কথার মাঝে নেশারি আলোয় ঝালিয়ে নিই একবার

শেষবারের মতোআমাদের সার্বভৌম শোক

চলো আরো দুঃখের দিকে হেঁটে যাই, সরে যাই চলো শূন্যতার দিকে

সেই যে সেবার...বলেছিলে-শূন্যতা বলে আসলে কিছু হয় না!

ওহে, এই সেই শূন্যতাআমদের রাত্রিকালীন সম্পর্ক...

চলো আজ গোল হয়ে বসি ঢেলে ফেলি এসো গ্লাসে শূন্যতার কথাশূন্যতা!...একটাকা চের বোতল যার মধ্যে পরিষ্কার একটা ইকোসিস্টেম থরে থরে

ঘুলিয়ে উঠছে

 

 

যে ভাবে কবিতা লিখি

 

I have never started a poem yet whose end I knew

 

...অবশেষে লিখতে লিখতে ঢুকে পড়ি অদৃশ্য শূন্যতায় অন্ধকার ভাড়া করে আলোদের সরাই সামনে থেকে তারপর সাদা পাতার মধ্যিখানে তৈরি করি একটা ফুটো গোলমুখো মাঝারিসাইজ যেখানে আমি মুখ গলাই... দেখতে পাই থরে থরে কত কবিতা সাজানোসাদা/কালোরোগা/মোটালম্বা/বেঁটেছোটো/বড়প্রেম/প্রতিবাদসত্যি/মিথ্যেদিন/রাতপ্রকৃতি

/প্রকৃতি-বিচ্ছিন্ন আরও হাজার হাজার বিষয়/বিষয়হীন লেখাপত্তর, যা আমি আদেও

বুঝিনা!

 

শুধু দেখি শুনি আর পড়ে যাই (মাঝে মাঝে প্রয়োজনে ফুটনোট লিখি) তারপর সব

কিছু জোড়ো করে একসাথে ভাবি মেলাই লেখার চেষ্টা করি

 

লিখি কাটি লিখি কাটি লিখি কাটি লিখি...

 

===