বিতা

জয়শীলা গুহ বাগচী

 

===

 

 

 

 

প্রাপ্ত কবিতা

 

 

এই তো তোমার আঁধারবর্ষ।

দুটো স্টেশনের মাঝখানে পড়ে থাকা তিন টুকরো লাশ

ছিন্ন শিরার মধ্যে দিয়ে খুনীর দুর্বৃত্ত ঘাম

 

পার্পল রঙের পর্দা মানে ফিল্মে একটা মৃত্যু দেখানো হবে।

প্রবাসী ল্যাভেন্ডার, দেশজ শৈলী দিতে তিলে তিলে মারবে আমায়

 

ভাগের পতাকা থেকে ছিটকে আসা ঘৃণা ও হরিয়ালির চাঁদ

ছাপিয়ে বেজে ওঠেন পারভীন

 

অথচ ল্যাভেন্ডার, ডিপ্রেশনের জন্য, স্নায়ু ঠান্ডা করার জন্য ভালো। ঘুম এনে দ্যায়।

স্বপ্নে আসো মাঝি, বৈঠায় আসো

 

ধান দাও, দুর্ব্বা দাও, হলুদ স্বস্তিকার মাঝে রক্তচিহ্ন আঁকো!

সমান্তরাল পোষা পৃথিবীর কাটা নলি থেকে

জন্ম মুছে যাক। মৃত্যু

মুছে যাক।

 

(দোলনচাঁপা চক্রবর্তী)

 

জয়শীলার কবিতা

 

জয়শীলা গুহ বাগচী

লুকনো গন্ধ এখন রক্তের চলাচল

ছড়িয়ে পড়ছে সময় অসময়ে

বেসামাল হচ্ছে তিন টুকরো সুর

দুপুরের ভুলে যাওয়া ভাত

ভাতের ধোঁয়ায় আশ্বাস ...... ওরা

ওদের পোড়া নাভিতে, ছিন্ন শিরায়

ধান, দূর্বা, হলুদ স্বস্তিকা

ছাদ নয়

আকাশ থেকে নামেনি কোন পার্পল রঙের পর্দা

বরং শীত পিয়ানো

উড়িয়ে দিয়েছে ভাঙাচোরা ধুলো আর বরফ কুচি

ভাঙতে ভাঙতে

অচেনা মনে হয় রুটি

 

নিঃশ্বাসে মৃত্যুর নড়াচড়া

সাহসী ... তীব্র ...মাথার অ্যাক্সিস

প্রতিদিনের টস......

 

চাঁদের উল্টো পিঠে যেখানে দাগ নেই

সেখানে স্মৃতির সোনাটায় জন্ম হয়

 

কবিতা ভাবনাঃ

 

একটা স্থান, একটা দেশ.... একটা ডুবে থাকা চেতনা....। কিন্তু তার ভেতর কত অজস্র খাঁজ... অনুভূতি.... প্রতিদিনের স্মৃতি নিয়ে গড়ে ওঠা অশেষ বিস্তার। মানুষ মানুষী ছাপিয়ে কী ভীষণ জীবন হয়ে ওঠে বস্তু - মশলার কৌটো, হাতব্যাগ, প্রিয় বালিশ, দেওয়াল, জানালার ছবি, প্রিয় গাছ।

 

কুণ্ডলীর প্রথম কবিতাটি পাবার পর কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসেছিলাম। আমি আমার পূর্বপুরুষের মত বাংলাদেশ ফেরত রিফিউজি নই। তবু বার বার অভ্যেসের জীবনটি গুটিয়ে রিফিউজি হতে হয়েছে। কী যন্ত্রণায় উপড়ে ফেলতে হয় শেকড় তা রিফিউজি জানে। না হলে ওই সিনেমাটির মত আঁকড়ে থাকা। সেইই পিয়ানিস্ট যে কিনা শেষপর্যন্ত পরিচয়ের কাছে টিকে ছিল। কজন পারে? হয় রক্তাপ্লুত নয় রক্তাল্পতায় নষ্ট হয়ে যায়।

 

আর্যনীলদার পাঠানো কবিতা আমার কবিতা হয়ে রয়ে যাবে। উত্তরে কবিতা তৈরী হয়েছে বটে সে তো ঘোরের ভেতর শব্দ খুঁজে মরা। আসল কবিতাটি হরফে লেখা হল না। লেখা হল না অনেক অনেক হারিয়ে ফেলা স্থান... কাল...... পাত্র। আয়লান কে দেখা যায়। আয়লান কে দেখা যায় না।

 

===

 

Copyright 2016 Kaurab ONLINE Published 31st Dec, 2016.