বিতা

দোলনচাঁপা চক্রবর্তী

 

===

 

 

 

 

প্রাপ্ত কবিতা

 

 

 

ঠান্ডা স্পর্শে সুষুন্মার সাপ বেরিয়েছে এঁকেবেঁকে

সর্বত্র জেগেছে মোমের মতো আলো, যে নিরুপায়

তারও জমেছে মোমের মতো মন

শরীরের অন্ধকারে ভাস্কর্যের খাঁজ গড়াবার হেতু

সন্ধানীরা জ্বেলে নিচ্ছে পরম্পরা-মন

 

অন্ধ থাকবার দরুন আলো তোমাকেও মারবে সহস্রবার

সংবেদন চিরে আলো বসে যাওয়ার ওইটুকু অনুমতি দাও অন্ধজনে

 

এক বিকেল গড়ানো অপেক্ষা ক্রমে সেজে উঠছে কবরের চালচিত্রে

পায়ে পায়ে ঘুরঘুর করছে জলভুলের তেরাকোটা

জন্ম থেকে বড়ো হয়ে নিজেই নিজেকে খেলছে আদিম সে প্রলোভন

 

(সঙ্ঘমিত্রা হালদার)

 

দোলনচাঁপার কবিতা

 

অন্ধ থাকবার দরুন আলো তোমাকেও মারবে সহস্রবার

 

অন্ধ থাকার আঙুল তোমাকে খোঁজে

গঙ্গার ঘাট থেকে সারেঙ্গী পর্যন্ত

সহস্র গলিপথ

ফুলের বাজারের মুখোমুখি, একা

ও একক শব্দের যমজ

একটুর জন্য ট্রাম চলে গেছে

কবরের চালচিত্র ভুলে

 

নোটবুকে লিখে রাখা এইসব খুঁটিনাটি

মাইনাস ৩০ ডিগ্রি

ষোলতলা থেকে তার ঝাঁপ দেয়া

নিচের জানলার স্কার্ফ বাঁধা রাশিয়ান মেয়ে

তাকে ভাবছে সুষুম্নার সাপ।

 

কাঠের রেলিঙ থেকে দেখা যায়

যতদূর চিবুকের তিল, বরফের কুচি

চায়ের দোকান, ক্রিসমাসের মোড় পেরোলেই

গাড়ি থেমে আছে।

 

গোরস্থান থেকে শুরু হওয়া দূরভাষ

মরসুম পালটে পালটে গোলাপবাগান হয়ে উঠছে

জানে আন্‌জানে

 

 

কবিতা ভাবনাঃ

 

অন্ধ থাকবার দরুণ আলোদরুণ নামের অমোঘটির জন্যই এই খেলাটা শুরু হতে পারল। অন্ধের বিপরীতে আলোই তো আসে। একঘেয়ে একটা অপরিহার্যতা। আমার প্রাপ্ত কবিতায় কয়েকবারই কিছু অপরিহার্যতার মুখোমুখিযেমন, আলোয়/ অন্ধে, জন্ম থেকে বড়ো হওয়ায়, বিকেল গড়ানো অপেক্ষায়, শরীরের অন্ধকারে। অথচ, আলোর বিপরীতে অন্য আশিয়াঁ। সুষুম্না থেকে শুরু হয়ে কবরের চালচিত্র পেরিয়ে অচেনা স্টেশনে যাবে। তার প্রস্তুতি ছড়িয়ে থাকে গোটা কবিতায়। খোলা শব্দ, ধ্বনিকলিংবেলের অপেক্ষায় থাকা একেকটা সংবেদন। মোমের মতো আলো অথবা মনঅঙ্কের নিয়মে মনই আলো? অন্ধকারবিহীনতা উদ্ভ্রান্ত করবে না কাজলকে? চোখের কী মেক্‌-আপ হবে তাহলে?

 

মন গলে যায় সংগোপনে! উদাসীনতায়! কাঠের রেলিং থেকে ঝুঁকে দেখি চোখ নয়, উদ্ভ্রান্ত দূরভাষ যা কিছু দেখেছে মনে মনেসব, এঁকে ফেলছে দক্ষ চারকোল হাতে। ফুলের বাজারের উপরের সেতু থেকে সিঁড়িভাঙা মুহুর্তেরা রেলট্র্যাক পালটে চলে যায় মাইনাস ৩০ ডিগ্রির দেশে। তারও রঙ নিশ্চলকুয়াশাপ্রবীণ। অন্ধ থাকার আঙুল ধরে হাঁটা। এভাবেই ক্রিসমাস মোড়!

 

===

 

Copyright 2016 Kaurab ONLINE Published 31st Dec, 2016.