বিতা

অনিন্দিতা গুপ্তরায়

 

===

 

 

 

 

প্রাপ্ত কবিতা

 

চাবির গর্ত দিয়ে তীব্র অনুর্বরতা। ব্যাগ্র

আয়তনেরা (নাভি চিপে) বরফ দিয়ে মাপা

ষ্টেশন ছাড়ায় :

 

তখন, সুঠাম খুলিগুলো একা একা খুলে রেখে ব্যাভিচারী

সোনা দাগানো কত শত বন্ধ কবর অপেক্ষায় বাঁচে

কোথায় কবে

 

শ্যাওলান্ন কাঠেরা চিৎকার করে বলেছিল,

ওড়া থেকে জন্ম জাগে আর তারপর

কচি ঘুম হাত মটকায় প্রলোভনে

 

ভুলে থাকার ব্যাকরণ ঘাম ধেয়ে আসে মেরু আঁকড়ে

এখন

 

সমাপ্তির আদিমে আবার কোথাকার এক !

 

আঁটি থেকে আট ঘাঁটি থেকে ঘাট সব দরজা ডিঙিয়ে সবুজ সূর্য এলোচুলে শিরা দাগে পাথরে পাথারে

কে কোথায় ছুঁড়েছিল ওম, মনে রাখে ব্রহ্মাণ্ডের সেই বিখণ্ড কণা।

(সুস্মিতা পাল)

অনিন্দিতার কবিতা

 

পুনরাভিনয়

অনিন্দিতা গুপ্তরায়

চাবি থেকে তালা পর্যন্ত সুষুম্না এমত সংবেদনে

বরফ তুলে নিচ্ছে আর প্ল্যাটফর্ম থেকে দ্রুত দৌড়ে আসছে

সেই থার্মোকলের সাদা---খুলি খুলে খোদাই করে জানলা

ইচ্ছেমত ঘুলঘুলির হাওয়া, ব্যভিচারী অন্নজল-- লোণা, আঁশটে

ভেসে যাচ্ছে স্টেশন চত্বরের বিকেল গড়ানো অপেক্ষা

কবরের চালচিত্রে সোনাবাঁধানো শাঁখা পলার ছিমছাম হাত

শ্যাওলা সরিয়ে মুখের ওপর ঝুঁকে এসে দ্যাখেচিৎকার করে

ওড়া থেকে জন্ম থেকে মৃত্যু থেকে প্রলোভন জেগে ওঠা ব্যকরণলিপি

ভীতি থেকে ভিত আর প্রীতি থেকে পিরিত সরিয়ে সরিয়ে

এলোচুলে সূর্যশিশির শুধু ফাঁদ, নিংড়ে তোলার সেই হত্যাদৃশ্য

পুনরায় নির্মিত হয় আর মনে রাখে আদিম খেলাটি জলভুল।

 

কবিতা ভাবনাঃ

 

একটা স্টেশন। এইমাত্র ট্রেন এসে দাঁড়ালো। আর উগরে দিলো কফিনের ঠান্ডা অনুসঙ্গসহ এক কাষ্ঠল অবয়ব। তার বাঁধানো পিতলের ফলকের পাশে যে ছিদ্র তা যেন এক ফেলিক ইমেজ নিয়ে জন্ম আর মৃত্যুর যৌথতার কথা। আর তার অপর জমে থাকা শ্যাওলার পরতে পরতে ট্রেনের শব্দ ছড়িয়ে পড়ছে। চাকার শব্দ। আর সেই চাবি ক্রমশই স্নায়ুতন্ত্রের ভিতর দিয়ে বরফের মত হিমস্রোত কাঁটাদার ত্বকের শিরশির নিয়ে একসময় খসখসে সাদা বাতিল থার্মোকলের মত অনুভূতিহীন। মরা মাছ শুয়ে থাকা পেটিগুলোর মত। আসলে ওই জীবন খুব ঝুঁকে পড়ে মৃত্যুটিকেই দেখতে থাকে। জীবন ও মৃত্যু গুলিয়ে দেওয়া ব্যকরণলিপি এক সমাপ্তির আদিম শব্দমালা থেকে শব খুলে নিয়ে তন্ত্রসাধনার ধুনি জ্বেলে রাখে। আর এই থেকেশব্দের অমোঘ প্রয়োগ একটা ধারাবাহিকতার দিকে নিয়ে যায় ক্রমশই।

 

হারিয়ে যাওয়া কোনও কিছুই ফিরে আসে না আর যথার্থতায়। মৃত্যুর মত ইশারাময় ব্রহ্মান্ডের অন্ধকার কৃষ্ণগহ্বর ফাঁদ পেতে রাখে। আর পতঙ্গের মত ছুটে যায়, ছুঁতে চায়-- সেই সূর্যশিশিরের পেটের ভেতর একটা স্টপেজবিহীন ট্রেন, তার পেটের ভেতর একটা কফিন, তার পেটের ভেতর একটা সাদা শৈত্যের অবয়ব। চাকায়চাকায় শুধু , , দ---আদিম ও মেটালিক।

 

===

 

Copyright 2016 Kaurab ONLINE Published 31st Dec, 2016.