বিতা

অদিতি বসুরায়

 

===

 

 

 

 

 

প্রাপ্ত কবিতা

 

খিদে

 

লুকনো গন্ধের বুভুক্ষু জিভ

কাটা কাটা ঘরে শরীরী বরফকুচি

ওরা তিন টুকরো সুরের ক্রিসক্রস খাদক

ছিন্ন শিরায়, পোড়া নাভিতে ধুলো আর ভাতের ধোঁয়া --- শ্মশান

পাশের হামাগুড়ি ও নকশা করা কাপড়ে ছেঁড়া এক ফালি পেট

সাপটে ধরে মাত্রা, বিন্দু, শ্যাওলা

অ্যাক্সিস থেকে লুপ্ত শক্তি আঙুলের পাঁজরে

প্রতিদিনের টস --- টসটসে চামড়ায় সোনাটা

মচকানো ইমারতের গায়ে টিকটিক টিকটিক

সাইফন সমাজের দাগী তালু --- মধ্যচ্ছদায় মেধা খসে

---তিন টুকরো ক্রিমিনাল খাদ্যভ্রম...

(তানিয়া চক্রবর্তী)

অদিতির কবিতা

 

অন্তিমে এনে

অদিতি বসুরায়

পোড়া নাভি থেকে আর জন্ম জাগে না...

মরে যায় শেষ বরফকুচি,ঘুমের ষ্টেশন

শ্যাওলা জমে জমে ঢেকে গেছে ছিন্ন শিরারা সব

মেধাময় ঘাম জড়িয়েছে শরীরের প্ল্যাটফর্মে

ঘুমিয়ে পড়ে যাপনের দিন!

সোনাটা শুনতে শুনতে যাত্রা শুরু হয় আমাদের

চিতাকাঠে লেখা হয় সমাপ্তি সিম্ফ্যনি,আদিম শ্লোক

আর লাস্ট পিডিএফ

 

ঘড়িরা বন্ধ হয়ে যায়

শোক সব আছড়ে পড়ে আর্ত পাথরে

 

নকশাপাড়ের শাড়ি একা বসে

এলোচুলে গান গায়

 

কবিতা ভাবনাঃ

 

আমার জন্যে বরাদ্দ কবিতাটি শেষ ডেস্টিনেশনের।যেখানে জীবনের গল্প মাথা নীচু করতে বাধ্য আবহমান কাল ধরে।আমি সেখান থেকে শুরু করেছি। এখানে আর ঘড়ির প্রয়োজন থাকে না বলে প্রসঙ্গ এনেছি ঘড়ি বন্ধ হওয়ার। কেননা সময় শেষ এখানে। চারিদিকে এক রকম শেষের আবহ। আমি সেটাকেই মন্ত্র করেছি। মৃতদেহের জন্যে পোশাক বাহুল্য।তাই সে যত সুন্দরই হোক না কেন,এখানে এখন সে অপ্রোজনীয় পুরোপুরি। এই শশ্মান যাত্রা চিরায়ত সত্য। আদিম এবং ধ্রুব। চিতাকাঠে তাই সব জাগতিক আয়োজনের সমাপ্তি। সেখানে কেবল বিচ্ছেদের বাঁশি বেজে যায়।বেজে যাচ্ছেসেই কবে থেকে!

 

 

===

 

Copyright 2016 Kaurab ONLINE Published 31st Dec, 2016.