বইমেলার ডায়েরি ২০১

 


কৌরব ১২৩ নং সংখ্যা








কৌরবের বই : ছবি - অমৃতা চট্টোপাধ্যায়


কৌরব সম্পাদক ও প্রকাশক - সুদেষ্ণা মজুমদার। ছবিঃ ইন্দ্রনীল ঘোষ।


১১/০২/২০১৮

Vote of thanks.

প্রথমেই অনেক ধন্যবাদ পাবলিশার্স এন্ড বুকসেলার্স গিল্ড-কে, কলকাতা বইমেলা ২০১৮-তে কৌরবকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার জন্য।

তারপরেই ধন্যবাদ জানাই প্রিয় পাঠকদের, যাঁরা বরাবরের মতো এবারও কৌরবের বই এবং কৌরবকুলের পাশে ছিলেন।

ধন্যবাদ ধূর্জটিদা, মিঠুদিকে। পাশেই, ৪১৪ নং স্টলে ছিল প্রকৃতি ভালোপাহাড়। ওঁদের সবাই সর্বদা সাহচর্য আর খাদ্য দিয়ে এ-কদিন আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। আমাদের এত অত্যাচার (খেতে দাও!!) সত্যি হাসিমুখে মেনে নিয়েছেন। এবং, সে-সব অসাধারণ পদ!

Pritha Mukherjee, Shuvashish Sarker Shuvo, Anisha Mitra, Kalyani Dey Chowdhury, Sargam Basu, Sayantan Mandal, Koushik Ray, Amrita Chatterjee, Utathya, Shankha, Preea-- এরা ছিল বলেই হাসতে হাসতে, চাপহীন হয়ে মেলা শেষ করতে পারলাম। কী চমৎকার ছেলে-মেয়েগুলো! ওরা ভালোবাসতে জানে। অনুপম রায়ের ভক্ত এরা। এদের কৌরবে পাঠানোর জন্য অনেক ভালোবাসা অনুপম।

............
বই গোছানো চলছে। চেনা কফিওলার আগমন। আরেকটু কফি, আরেকটু কড়া নিয়ে যখন আবদার চালাচ্ছি, সে লোক ফট করে বলে বসল, 'আপনাকে বেশি দিলাম তো! আপনার ছবি বেরিয়েছে কাগজে।' 'কী?' 'হ্যাঁ, এই দেখুন। কাগজটা রেখে দিয়েছি। দোকানে বইয়ের মধ্যে বসে আছেন।'
সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ল কাগজের ওপর। হাহাহোহো থামেই না।
ছবিটা অনেক পুরোনো। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের। কাগজটা আজকের।

সামনের বছর হয়তো আবার দেখা হবে।
ভালো থাকবেন। ভালোবাসা নেবেন।

০৪/০২/২০১৮

 

বারীনদা রয়ে যায়

 

 

রবিবারের ভিড়, জমজমাট মেলা। বিক্রিবাটা মন্দের ভালো। তার চেয়ে বেশি ভালো স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়া। অনেকেই কাল ভিড় দেখে চলে গেছিল, আজ এসে দেখা করে গেল। মনটা আনন্দে ভরে গেছে, খুব স্বাভাবিক। স্টলে বারীনদা রয়েছে। সবসময়। মেলা শেষে যখন আমরা চলে আসি, বারীনদা রয়ে যায়। তার সবচেয়ে প্রিয় বই, আর কৌরবের সঙ্গে।

 

০৩/০২/২০১৮

 

ঘোরলাগা দিন

 

একটা ঘোরের মধ্যে দিয়ে কেটে গেল আজকের দিনটা। ঘোর এখনো কাটেনি মনে হচ্ছে।

 

কৌরবের বই প্রকাশ হল, গতকাল যেটার কথা বলেছিলাম। মেলার মুক্তমঞ্চে, দুপুর ২টোর সময়। বাইপাসে দুর্ঘটনা, মৃত্যু, বাস পোড়ানোর কারণে গোটা কলকাতা স্তব্ধ হয়ে গেছিল। ফলে বেশির ভাগ মানুষ সময়মতো মাঠে ঢুকতেই পারেননি। অনুষ্ঠান শুরু করতে তাই দেরি হয়েছিল কিছুটা। কমল চক্রবর্তী, স্বপন রায়, উমাপদ কর, প্রণব পাল, জয়শীলা গুহ বাগচী আর অনুপম রায় ছিলেন অনুষ্ঠানের মধ্যমণি হয়ে। কমল চক্রবর্তী কৌরব ১২৩ এবং আপেল ঘুমিয়ে আছে বই দুটি প্রকাশ করেন। উমাপদ কর প্রণব পালের কবিতার বই, স্বপন রায় জয়শীলা গুহ বাগচীর কবিতার বই, কমল চক্রবর্তী অনুপম রায়ের গল্পের বই প্রকাশ করেন। গোটা অনুষ্ঠানটির চলচ্চিত্রায়ণ করা হয়েছে। ছবি পাওয়া যাবে এখানে

https://www.facebook.com/AROFC/videos/1096985663775230/

 

 

 

 

শংকর চক্রবর্তী, শ্যামলকান্তি দাস রাস্তায় আটকে গিয়ে সময়মতো আসতে না পারায়, আজকের অনুষ্ঠানে কৌরব তাঁদের পেল না। এটি বেশ কষ্টের।

 

তারপর দরজা ভাঙো পুর্বের শুরু! রঞ্জনদা ব্যাংকের দরজা শেকল দিয়ে বেঁধে একটু ফাঁক করে রাখার মতো ব্যবস্থা করেছিল ভাগ্যিস! এক-এক করে ঢোকো পন্থায় কাজটা মেটানো গেল। বাউন্সার রাখতে হয়েছিল। সে-সবেরও প্রচুর ছবি তোলা হয়েছে। হাতে পেলেই পাতে পড়বে। আর একজনের কথা না বললেই নয়। সে হল কৌশিক রায়। ও যেভাবে রঞ্জনদাকে সাহায্য করে গেছে, না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। ও পাশে না থাকলে এই যজ্ঞ সামলানো যেত না। ধন্যবাদ কৌশিক।

 

আপাতত ক্লান্তি নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। আগামীকাল আবার মেলা।

 

 

০২/০২/২০১৮

 

চড়াই পাখি

 

একটা হুলুস্থুলু কাণ্ড আগামীকাল হবে বলে মনে হচ্ছে। তার আগে বলি, যে-কটা আপেল ঘুমিয়ে আছে স্টলে নিয়ে গিয়েছিলাম, সব শেষ! আগামীকালের জন্য বুক করা শুরু হয়ে গেছে। হায় প্রেস...

 

চড়াই পাখির মতো অনীশা, সে তার ছোট্ট দুটো ডানা দু-ধারে ছড়িয়ে বলেছে, দাদাকে আমি রক্ষা করব! ভিড় থেকে, ধাক্কাধাক্কি থেকে। আর সেটা দেখে আর এক চড়াই, মানে শঙ্খ, মনে মনে ঈর্ষান্বিত হল (দাদা কি তোর একার?)আমার ধারণা।

কাল যদি দরজা-ভাঙো কেস হয়, মহা চাপ! স্টলের দরজা এবার নড়বড়ে, ততোধিক নড়বড়ে টেবিলটি। যার একটা পা আমারই মতো, লড়চড়ে। একটু ঠ্যালা লাগলেই চ্যাঁ করে উঠছে। তোরা প্লিজ টেবিল আর দরজাকেও রক্ষা করিস। ভেঙে গেলে গিল্ড আর গড়ে দেবে না! কাল কিছু বাউন্সার দরকার হবে বলে মনে হচ্ছে।

 

'কৌরব ১২৩' কাল প্রকাশিত হবে। আপেল ঘুমিয়ে আছে কাল আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশিত হবে, প্রণব পালের কবিতার বই ভাষাবদলের মন্দাক্রান্তা ও অন্যান্য কবিতা। জয়শীলা গুহ বাগচী জল-শহর থেকে কোল-শহরে এসে গেছে। তার কবিতার বই ফুল্লরার কলের গান ও কাল মঞ্চে আসছে। সঙ্গে অনুপম রায়ের গল্পের একটা সংকলন আমাদের বেঁচে থাকা। দুপুর ২টো থেকে ৩টে। বইমেলার মুক্তমঞ্চে। অবশ্যই আসবেন সবাই।

...

...

 

সত্যি বলো বারীনদা! মিস করছ কিনা?

 

০১/০২/২০১৮

 

নতুন পাতা

 

জীবন সত্যিই নদীর স্রোতের ন্যায় বহিয়া যায়। কিছুই থেমে থাকে না।

একদল যায়, একদল আসে, আমাদের কৌরবের পতাকা তার ওড়া থামায় না। কৌরব ভাবে, এই তো এরা! আমাদের নতুন পাতা, নতুন বন্ধু, সহযোদ্ধা। অনীশা, পৃথা আর কল্যাণী- যাদের আগে চিনত না কৌরব, এক পৃথা ছাড়া, চলে এসেছে হাতে-হাতে, পাতে-পাতে, পাতায় পাতায় এগিয়ে চলার জন্য। পরে এদের সঙ্গে আরো দুজন, শুভ আর উতথ্য যোগ দিয়ে স্টল সাজানোর দায়িত্ব পালনে রঞ্জনদার পাশে হাসিমুখে দাঁড়ালো।

 

কৌরব তোদের বুকে টেনে নিল রে!

 

আরেক দেখা

 

উড়ে চলে গেলাম সেন্ট্রাল পার্ক, সল্ট লেক। গিয়ে দেখি সে কি! সবে স্টল শুরু হয়েছে গড়া ইট্‌ ওয়াস লাইক। গেট লাগানো হলেই পালাবে রঞ্জনদা, সুদেষ্ণাদি, সব্যসাচীদা, মনোজদা। ১১টা থেকে এসে এসবই করতে হয়েছে তাদের। স্থানান্তরিত হলেও দুটো ভাল জিনিস হয়েছে এবার - পাশেই ভালপাহাড় আর গেট দিয়েই ঢুকেই ডানদিকে ৪১৫। যদিও আমি রাস্তা ভোলায় সেরা কাজেই মেলা হেঁটেছি মেলায় টয়লেট থেকে কৌরবে ফিরতি পথে। ইতিমধ্যে শুভ্রদার বই খুঁজতে ক্রেতারা ঢুঁ মেরে যায় স্টলে। অ্যাশবেরিও খুঁজছিল তারা। পৃথার কাছে জানলাম ৩ তারিখ বেরোবে অনুপমদার বই। অমনি শুরু হয়ে গেল, রঞ্জনদা বলল- ৩ তারিখ নাকি আমি আসবই আসব। সামনে ন্যাশনাল বুক ট্রাস্টের দিকে চেয়ে মনে হল - এইজন্যই বলা হয় "দ্য শো মাস্ট গো অন্‌" । তাই কৌরবের সামনের চেয়ারটা ফাঁকা ছিল, ভীষণ ফাঁকা। যতটা ফাঁকা লাগে বিজয়ার কয়েকদিন পর রাস্তায় বেরলে।

 

 

৩১/০১/২০১৮

 

পুব ফুরোয়নি

 

বারীনদা, পুব ফুরোয়নি। ২০১৮র বইমেলায় কৌরবের স্টল নং ৪১৫। লিটিল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়নের পাশে। প্রকৃতি ভালোপাহাড় ৪১৪। তুমি ভেব না। আমি একা নই। ৪ নং গেট দিয়ে ঢুকে সোজা গেলেই পেয়ে যাবে।

 

আচ্ছা, প্রেমিকার নমুনা কী জানেন আপনারা? এই যে

 

 

ভালোবাসায় উপেক্ষা থাকবে, স্বাভাবিক। ধৈর্য ধরতে হবে প্রেমিকাকে পেতে হলে। তবে না আলিঙ্গন, তবে না সঙ্গম, তবে না সৎকার।

 

শুরু হয়ে গেল বইমেলা ২০১৮। কৌরবের প্রথম বারীনহীন মেলা। আর নেই বলেই বারীনদার উপস্থিতি যেন সর্বত্র। শুরু তো হল! মনে পড়ছে সল্ট লেক স্টেডিয়ামে যেবার প্রথম বইমেলা হল ময়দান থেকে উৎপাটিত হবার পর। বাতিহীন, দরজাহীন, তাকহীন, প্রথমদিন। আজও তেমন। বসে বসে বই পাহারা দেওয়া ছাড়া আর একটা কাজ করছি। না, শুনছি। কোনো কোনো স্টলে বই বিক্রিও শুরু হয়ে গেছে। মাইকে গান, ঘোষণা।

 

 

নতুন বই

 

আসবে আসবে, রসো বাছা! এবার কৌরবের চারটে নতুন বই

 

স্বদেশ সেন কবিতাসমগ্র আপেল ঘুমিয়ে আছে। সম্পাদনাঃ শংকর লাহিড়ী

 

প্রণব পালের পরীক্ষামূলক ভাষাকবিতার বই ভাষাবদলের মন্দাক্রান্তা ও অন্য কবিতা

 

জয়শীলা গুহবাগচীর কাব্যগ্রন্থ ফুল্লরার কলের গান

 

অনুপম রায়ের গদ্যগ্রন্থ আমাদের বেঁচে থাকা